উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার চার অভিযুক্ত। ধরা পড়েছে পাঁচ নাবালকও। — প্রতীকী চিত্র।
বিদেশি গুপ্তচরদের কাছে তথ্যপাচারের অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পাকড়াও করা হয়েছে পাঁচ নাবালককে। অভিযোগ, ধৃতেরা দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রেল স্টেশন এবং বেশ কিছু সংবেদনশীল অঞ্চলের ছবি এবং ভিডিয়ো তুলতেন। তার পরে সেগুলি বিদেশিদের হাতে তুলে দিতেন। ওই সংবেদনশীল এলাকাগুলির জিপিএস কো-অর্ডিনেটও বিদেশিদের কাছে পাচারের অভিযোগ রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে।
উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে ওই অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়েছে। তবে মূলচক্রীরা এখনও অধরা। পুলিশ সূত্রে খবর, বিহারের মুজ়ফ্ফরপুরের বাসিন্দা নওশাদ আলি এবং ভাগলপুরের বাসিন্দা সমীর ওরফে ‘শুটার’ হলেন এই তথ্যপাচার চক্রের মাথা। উভয়েই বর্তমানে পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, যে চার প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের সকলেরই বয়স ১৮-২৬ বছরের মধ্যে। ধৃতদের মধ্যে এক জনের বাড়ি বিহারের পূর্ণিয়ায়। দু’জনের বা়ড়ি উত্তরপ্রদেশে, তাঁদের মধ্যে এক জন থাকতেন মহারাষ্ট্রে। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয়েছে তাঁকে।
গুপ্তচরদের কাছে তথ্যপাচারের অভিযোগে আগেই সুহেল মালিক নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তিনিও এই চক্রের সঙ্গেই জড়িত। সূত্রের খবর, ধৃত সুহেলকে জেরা করেই বাকিদের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। গাজ়িয়াবাদের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাজকরণ নায়ার জানান, ধৃতদের জেরা করে ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। বিদেশ থেকে কয়েক জন হ্যান্ডলার ধৃতদের অ্যাসাইনমেন্ট (কাজের নির্দেশ) দিতেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল অঞ্চলে ধৃতেরা সিসি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকা এবং সোনিপত রেল স্টেশনের কাছে এমন কিছু সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সেই ক্যামেরার ফিড পাঠানো হত বিদেশি হ্যান্ডলারদের। জানা যাচ্ছে, প্রতিটি কাজের জন্য ‘পারিশ্রমিক’ হিসাবে ৫০০-১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেতেন অভিযুক্তেরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং সরকারি গোপনীয়তা আইনের যথাযথ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।