Harish Rana Euthanasia Case

বুধবার দিল্লিতে শেষকৃত্য হল হরীশ রানার! চোখের জলে বিদায় দিয়ে বাবা-মা বললেন ‘ও এখন চিরশান্তিতে’!

বুধবার সকালে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হরীশের মরদেহ গ্রিন পার্কে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আগে থেকেই অনেকে হাজির ছিলেন। তাঁরা সকলে একে একে হরীশকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৫
Share:

হরীশ রানা। ফাইল চিত্র।

দিল্লিতে বুধবার শেষকৃত্য হল হরীশ রানার। দক্ষিণ দিল্লির গ্রিন পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তাঁর। সেখানে সকাল থেকে আত্মীয়-পরিজন এবং স্থানীয়দের ভিড় ছিল। অনেকেরই তখন চোখের কোণে জল। অশ্রুসজল চোখে হরীশকে বিদায় জানালেন তাঁর বাবা-মা। তাঁরা বলেন, ‘‘ও এখন চিরশান্তিতে।’’

Advertisement

বুধবার সকালে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হরীশের মরদেহ গ্রিন পার্কে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আগে থেকেই অনেকে হাজির ছিলেন। তাঁরা সকলে একে একে হরীশকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ওই শেষকৃত্যে হাজির এক ব্যক্তি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, সকলে যখন হরীশের জন্য কান্নাকাটি করছিলেন, তখন তাঁর বাবা-মা বলেন, ‘‘আপনারা কাঁদবেন না, ও এখন চিরশান্তিতে।’’ ভাই আশিস হরীশের শেষকৃত্য করেন। ব্রহ্মকুমারী সিস্টার লাভলিও সেখানে হাজির ছিলেন। তিনি সর্ব ক্ষণ রানা পরিবারের পাশে ছিলেন। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে সিস্টার লাভলি জানিয়েছেন, হরীশের চক্ষুদান করা হবে। তবে হরীশের অন্য কোনও অঙ্গদান হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দিল্লির এমসে মঙ্গলবার মৃত্যু হয় হরীশের। গত ১৩ বছর ধরে তিনি কোমায় ছিলেন। তাঁর ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, দেশে প্রথম বার। তার পরেই গাজ়িয়াবাদের বাড়ি থেকে তাঁকে দিল্লির এমসের বিআর অম্বেডকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালের উপশমকারী বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে ৩১ বছরের যুবককে বাঁচিয়ে রাখার কৃত্রিম ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমসের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টে ১০ মিনিটে মারা গিয়েছেন হরীশ।

Advertisement

গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট হরিশের বাবা-মায়ের আবেদন মেনে নিয়েছিল। তাঁর ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দিয়েছিল। তার পরে ১৪ মার্চ তাঁকে বাড়ি থেকে এমসের হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ১৩ বছর ধরে কৃত্রিম ভাবে তাঁর পুষ্টির ব্যবস্থা করতেন চিকিৎসকেরা। সময়ে সময়ে কৃত্রিম অক্সিজেনও দেওয়া হত। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরে হরীশকে ধীরে ধীরে কৃত্রিম ভাবে পুষ্টি জোগানো বন্ধ করা হয়। তাঁর জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরানো হয়।

চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন হরীশ। ২০১৩ সালে হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। সেই থেকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী তিনি। ডাক্তারি পদ্ধতিতে হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সাল থেকে তাঁদের সন্তান শয্যাশায়ী। তাঁর সেরে ওঠার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। দিনের পর দিন অসুস্থতা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুত্রের কষ্ট লাঘব করার জন্যই তাঁর মৃত্যু প্রয়োজন। তবে প্রত্যক্ষ নয়, হরীশের জন্য পরোক্ষ মৃত্যুদানের আবেদন জানানো হয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement