সবেমাত্র তাঁকে ফের রাজ্যসভায় পাঠানোর সুপারিশ করেছে আলিমুদ্দিন। এরই মধ্যে সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে রাহুল গাঁধীর ফের বৈঠকে নতুন করে তোলপাড় সিপিএমের অন্দর মহল!
রাহুলের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে বৈঠক হয়েছে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের। বাংলার সিপিএম নেতারা তাঁকে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়েই ফের রাজ্যসভায় পাঠাতে চান। কিন্তু আপত্তি রয়েছে প্রকাশ কারাট শিবিরের। আগামী ৬ ও ৭ জুনের পলিটব্যুরো বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তারই মধ্যে ফের রাহুল-ইয়েচুরি বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিপিএম সূত্রের খবর, ইয়েচুরিকে রাজ্যসভায় ফেরত পাঠাতে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি। তাই শুধু ইয়েচুরির সঙ্গে বৈঠকই নয়, বঙ্গ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে রাহুলের দফতরের তরফে। সিপিএমের পলিটব্যুরোয় সূর্যবাবু, বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমেরা যাতে ছুৎমার্গ সরিয়ে ইয়েচুরিকে রাজ্যসভার প্রার্থী করার জন্য জোরালো সওয়াল করতে পারেন, তার জন্যই হাইকম্যান্ডের তরফে এমন তৎপরতা বলে মনে করছেন কংগ্রেস নেতারা।
ইয়েচুরি অবশ্য ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, রাহুলের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী জোটের প্রার্থী বাছাই নিয়ে। কংগ্রেস নেতা অহমেদ পটেল, জেডি (ইউ) নেতা শরদ যাদবের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ইয়েচুরি। টেলিফোনে কথা বলেছেন নীতীশ কুমারের সঙ্গে। সিপিএম ঠিকই করে ফেলেছে, শুক্রবার বিরোধী জোটের বৈঠকে গোপালকৃষ্ণ গাঁধীর নাম তারা রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে তুলবে। ইয়েচুরি গোপালকৃষ্ণের সঙ্গেও এক প্রস্ত কথাবার্তা সেরে রেখেছেন। অন্যান্য দলের নেতাদেরও তা জানিয়ে রেখেছেন তিনি।
কংগ্রেসের একটি সূত্র অবশ্য বলছে, রাহুল-ইয়েচুরির বৈঠকে রাজ্যসভায় মনোনয়নের প্রসঙ্গও এসেছিল। আগেই রাহুল-সনিয়া গাঁধী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ইয়েচুরি প্রার্থী হলে কংগ্রেস তাঁকে সমর্থন করবে। প্রদেশ কংগ্রেসের সিংহ ভাগও তার জন্য তৈরি।
ইয়েচুরি প্রার্থী হলে তৃণমূল রাজ্য থেকে ষষ্ঠ আসনে কোনও প্রার্থী দাঁড় করিয়ে যাতে বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরাতে না পারে, তার জন্যও সতর্ক থাকতে চাইছেন রাহুল। সেই জন্যই বাংলার সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর তরফে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে কংগ্রেস সূত্রের ব্যাখ্যা।
কারাট শিবির অবশ্য নতুন প্রশ্ন তুলেছে, ২০০৪-এ তাঁকে প্রথম বার রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাব এলে কংগ্রেসের সমর্থন দরকার ছিল বলে ইয়েচুরি নিজেই রাজি হননি। সে বছর অন্ধ্র থেকে পি মধুকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। পরের বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাংসদ হন ইয়েচুরি। এখন সেই ইয়েচুরিই কী করে কংগ্রেসের সমর্থনে রাজ্যসভায় যাবেন!