Yumnam Khemchand Singh

প্রাক্তন তৃণমূল নেতা খেমচাঁদ মণিপুরের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী! উঠছে রাষ্ট্রপতি শাসন, নেতা বাছল বিজেপি পরিষদীয় দল

মেইতেই এবং কুকিদের সংঘর্ষের জেরে মণিপুরে ২০২৩-এর মে মাস থেকে হিংসা শুরু হয়েছিল। তার প্রায় ২১ মাস পরে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ ইস্তফা দিয়েছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০১
Share:

ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহ। —ফাইল চিত্র।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসনের ইতি টেনে মণিপুরে বিধানসভার ‘পুনরুজ্জীবন’ এবং সরকার গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। মঙ্গলবার, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গোষ্ঠীহিংসা কবলিত রাজ্যে বিজেপি পরিষদীয় দলের নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহকে। মণিপুর বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার খেমচাঁদ একদা তৃণমূলের নেতা ছিলেন।

Advertisement

গত সপ্তাহেই বিজেপি এবং সহযোগী দলগুলির বিধায়কদের দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে বিজেপি সদর দফতরে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে। সেখানে মণিপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তরুণ চুগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সম্বিত পাত্র উপস্থিত ছিলেন। এর পরে সহযোগী দলগুলির সঙ্গে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে খেমচাঁদের নাম ঘোষণা হয় তাঁর নাম। এর ফলে মণিপুরে শান্তি ফিরবে বলে দাবি করেছে বিজেপি। পশ্চিম ইম্ফল জেলার সিংজামেই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পর পর দু’টি নির্বাচনে (২০১৭ এবং ২০২২) জয়ী হয়েছেন খেমচাঁদ। তার আগে ২০১২ সালে ওই কেন্দ্রেই তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করে মাত্র ১৫৭ ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীর হেরেছিলেন তিনি। সে বারের বিধানসভা ভোটে মণিপুরে সাতটি বিধানসভা আসনে জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল তৃণমূল।

বিজেপির পরিষদীয় দনেতা পদে তাঁর পূর্বসূরি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের মতোই খেমচাঁদেরও রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। মেইতেই জনগোষ্ঠীর দল ডেমোক্র্যাটিক রেভলিউশনারি পিপলস পার্টির পতাকা ধরে। পরবর্তী সময়ে সেই দল কংগ্রেসে মিশে গিয়েছিল। বীরেনের সঙ্গেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন খেঁমচাঁদ। এর পরে তৃণমূল ঘুরে ২০১৩ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। মেইতেই এবং কুকিদের সংঘর্ষের জেরে মণিপুরে ২০২৩-এর মে মাস থেকে হিংসা শুরু হয়েছিল। তার প্রায় ২১ মাস পরে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন ইস্তফা দিয়েছিলেন। এর পরেই ১৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিল। গত অগস্ট মাসে সংসদে বিল এনে সেই রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।

Advertisement

মণিপুরের বিজেপি নেতারা অবশ্য রাষ্ট্রপতি শাসন মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলেও মণিপুরের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়নি। তা ‘সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন’-এ রাখা হয়েছে। যার অর্থ, প্রয়োজনে এই বিধানসভা জিইয়ে ফের সরকার গঠন করা যায়। ইম্ফল উপত্যকার এনডিএ বিধায়কেরা (যাঁরা মূলত মেইতেই জনগোষ্ঠীর) রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করে নির্বাচিত সরকার গঠনের দাবি তুলেছেন। কিন্তু প্রকাশ্যেই তার বিরোধিতা করেছেন পাহাড় অঞ্চলে বসবাসকারী জ়ো-কুকি বিধায়কেরা। মেইতেই প্রাধান্য রয়েছে এমন সরকারে শামিল না হওয়ার কথা ঘোষণা করে পৃথক বিধানসভা-সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি তুলছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে কুকি জনজাতির মহিলা বিধায়ক নেমচা কিপগেনকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ৬০ সদস্যের মণিপুর বিধানসভায় একটি আসন বর্তমানে খালি রয়েছে। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৩৭ (২০২২ সালে ৩২টি আসনে বিজেপি জিতলেও পরে পাঁচ বিধায়ক পদ্মশিবিরে যোগ দেন)। এঁদের মধ্যে ৭ জন কুকি-জ়ো জনগোষ্ঠীর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement