এটাই আমার ঘর, সহানুভূতি তাসে মোদীকে চাপ সনিয়ার

নরেন্দ্র মোদীর হুঙ্কারের জবাব দিলেন সনিয়া গাঁধী। জবাব দিতে বেছে নিলেন নির্বাচনী জনসভাকেই।

Advertisement

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০১৬ ০৩:৫৭
Share:

নরেন্দ্র মোদীর হুঙ্কারের জবাব দিলেন সনিয়া গাঁধী। জবাব দিতে বেছে নিলেন নির্বাচনী জনসভাকেই।

Advertisement

গত দু’দিন ধরে নরেন্দ্র মোদী কেরল ও তামিলনাড়ুর ভোট প্রচারে গিয়ে কপ্টার ঘুষ কাণ্ডে নাম না করে সনিয়া গাঁধীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছিলেন। সুকৌশলে সনিয়া গাঁধীর ইতালি যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর শাস্তিও দাবি করছিলেন। আজ ঠিক একই ছন্দে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার জন্য কংগ্রেস সভানেত্রী বেছে নিলেন কেরলের এক নির্বাচনী জনসভাকে। সহানুভূতির তাস খেলে তিনি বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি ইতালিতে জন্মেছি। তাতে আমি লজ্জিত নই। সেখানে আমার ৯৩ বছরের মা রয়েছেন। তাতেও আমি লজ্জিত নই। ৪৮ বছর ধরে আমি ভারতে রয়েছি। এটা আমার ঘর। এটা আমার দেশ। ইন্দিরা গাঁধীর পুত্রবধূ হিসেবে আমি এ দেশে এসেছিলাম। আর এ দেশেই মরব। এই ভারতেই আমার চিতা ভস্ম বিসর্জন দেওয়া হবে। কারণ এ দেশের মাটিতেই আমার প্রিয়জনের রক্ত মিশে আছে।’’

এরপরেই সটান নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে সনিয়া বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এ দেশের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা কোনও দিন বুঝবেন না। তিনি ও সঙ্ঘ পরিবার যে আমায় লাগাতার আক্রমণ করবেন, সেটাই প্রত্যাশিত।’’ কাল প্রচারে কেরল যাচ্ছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সেখানে গিয়ে এর পাল্টা জবাব দিতে পারেন তিনি। কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডু আজ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ভুল কিছু বলেননি। কপ্টার কাণ্ড নিয়ে সকলে যা জানেন, আদালতের যা পর্যবেক্ষণ জনসভাতে সেই কথাই বলেছেন মোদীজি।’’

Advertisement

তদন্ত নিজের পথে এগোলেও, এখনও এই মামলায় সনিয়ার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ আছে, তা সরকারের কোনও ছোট-বড় মন্ত্রীও বলতে পারছেন না। সংসদের ভিতরে তাই সরকার পক্ষ সনিয়ার নাম এড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু সংসদের বাইরে হুঙ্কার-পাল্টা হুঙ্কারের রাজনীতিতে এর ফায়দা তুলতে নেমে পড়েছেন মোদী ও তাঁর সেনাপতিরা। শাসক শিবিরের এই তারতম্য নিয়েই আজ দিনভর রাজ্যসভা অচল করে রাখেন
কংগ্রেস সাংসদেরা।

সকালে অধিবেশন শুরু হতেই কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অহরহ কপ্টার দুর্নীতি মামলায় সনিয়াকে আক্রমণ করছেন। সব সংবাদপত্রে তা ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। অথচ সংসদের উভয় সভায় কপ্টার দুর্নীতির ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সরকার পক্ষ কংগ্রেস সভানেত্রীর বিরুদ্ধে এক চিলতেও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সনিয়াকে দুর্নীতি প্রশ্নে আক্রমণ করছেন, তখন তিনি সংসদে এসে বলুন তাঁর কাছে কী প্রমাণ রয়েছে। কংগ্রেস শিবিরের দাবি, সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত করলে, সেই তদন্তেও সনিয়া গাঁধী বা ইউপিএ-র কোনও নেতার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যাবে না। কংগ্রেসের প্রশ্ন, তা হলে তদন্তের পরিণাম কী হওয়া উচিত, তা কি আগেভাগেই ঠিক করে ফেলছেন প্রধানমন্ত্রী? এ ধরনের মন্তব্য করে তদন্তকে কি প্রভাবিত করছেন না তিনি? বিষয়টি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন কংগ্রেস সাংসদেরা। যদিও সেই দাবি উড়িয়ে বেঙ্কাইয়া বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কেন জবাব দিতে যাবেন! তদন্ত
শেষ হলে কংগ্রেসকেই সব জবাব দিতে হবে।’’

আজ এই পরিস্থিতিতে আবার আসরে নেমে পড়েন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল শিবির। আজও সেই সমীকরণ মেনে কংগ্রেস বেঞ্চকে আক্রমণ করেন সুখেন্দুবাবু। মূলত তাঁর আক্রমণের চোটে এক সময় নিজের আসনে বসে পড়েন কংগ্রেস সাংসদেরা। অন্য দিকে সুখেন্দুর সমর্থনে এগিয়ে আসতে দেখা যায় বিজেপিকে। সুখেন্দুবাবু জানান, কাল রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে চিঠি লিখে তিনি জানতে চাইবেন, কেন তাঁর বিরুদ্ধেই ২৫৫ ধারা প্রয়োগ করে দিনভর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে কপ্টার কাণ্ড নিয়ে বলতে গিয়ে গাঁধী শব্দটি ব্যবহার করায় তাঁকে সংসদের ২৫৫ ধারায় গোটা দিনের জন্য বহিষ্কার করেন রাজ্যসভার স্পিকার হামিদ আনসারি। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সুখেন্দুবাবু বলেন, ‘‘সে দিন আমি ছাড়াও ৩৩ জন কংগ্রেস সাংসদ সভায় অসংসদীয় ব্যবহার করেছিল। কিন্তু একা আমায় শাস্তি দেওয়া হলো।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement