(বাঁ দিকে) সনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। সোমবার দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে। —ফাইল চিত্র।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে যোগ দিল কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, সিপিআই-সহ ২৫টি বিরোধী দল। সোমবার বেলা ১২টায় দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টা তিনেক বৈঠক চলার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিরোধী জোটের নেতারা। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানান, পাঁচটি বিষয়ে একমত হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’-র শরিক দলগুলি।
‘ইন্ডিয়া’-র ভবিষ্যৎ কর্মসূচির কথাও জানান খড়্গে। তিনি জানান, ‘ভোট-চুরি’, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে চিঠি দেবে বিরোধী দলগুলি। তা ছাড়া নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছে ‘ইন্ডিয়া’। তা ছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে সর্বদল বৈঠকের ডাক দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে আর্জি জানাবে বিরোধী দলগুলি।
এর পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া’-র অন্তর্ভুক্ত দলগুলি দু’মাস অন্তর বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরের বৈঠকটি হবে অগস্ট মাসে, হায়দরাবাদে। সংসদের অধিবেশন চললে কক্ষ সমন্বয়ের জন্য প্রতি দিন বৈঠকে বসবেন বিরোধী সাংসদেরা।
সোমবার তৃণমূলের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। তা ছাড়াও সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র অখিলেশ সিংহ যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব, এনসি-র ওমর আবদুল্লাও বৈঠকে যোগ দেন।
‘ইন্ডিয়া’-র সোমবারের বৈঠকের জন্য রবিবার দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। অভিষেক আগের দিন থেকেই দিল্লিতে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে খুব একটা সুসম্পর্ক তাঁর ছিল না। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর মমতাকে রাহুল গান্ধীর ফোন বা রাহুল-অভিষেক ফোনালাপের মধ্যে দিয়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে জোট বাঁধার জন্য আহ্বান জানান মমতা। কংগ্রেস ছাড়াও তিনি আহ্বান জানান বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও।