India-Bangladesh

হাসিনাকে প্রত্যর্পণ: সব দিক খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি

কূটনৈতিক মহলের মতে, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারত তার অবস্থানের প্রতিধ্বনি করল। সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি এসে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে ফের আর্জি জানিয়েছিলেন নয়াদিল্লির কাছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫০
Share:

শেখ হাসিনা। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বিচারবিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার দিকটি খতিয়ে দেখছে ভারত। আজ এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল। তাঁর কথায়, “প্রত্যর্পণের (বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে) অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, চলতি বিচারবিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে। এ ব্যাপারে স্বার্থ জড়িত রয়েছে এমন সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ভাবে আমরা কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি।”

কূটনৈতিক মহলের মতে, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারত তার অবস্থানের প্রতিধ্বনি করল। সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি এসে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে ফের আর্জি জানিয়েছিলেন নয়াদিল্লির কাছে।

বাংলাদেশ সংক্রান্ত আরও একটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন জায়সওয়াল। এই মাসে বাংলাদেশের সংসদে একটি আইন পাশ করা হয়েছে, যা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়টিকে আইনি নিশ্চয়তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। জাওসওয়ালের কথায়, “আমরা ওই ঘটনাবলির দিকে সতর্ক নজর রাখছি।” খলিলুরের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে ভারত যে বিবৃতি দিয়েছিল সে দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আমি এ কথা বিশেষ ভাবে তুলে ধরতে চাই যে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক কাজে সংযুক্ত থাকতে ভারতের প্রয়াসের কথা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হোক এমনটাই চাওয়া হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে অন্তর্বতিকালীন সরকারের তরফে এই একই দাবি নিয়ে নয়াদিল্লিকে চিঠি লেখা হয়েছিল গত বছরের শেষে। সে সময়েও জায়সওয়াল বলেছিলেন, ‘‘চলমান বিচারবিভাগীয় ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা-সহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা বাংলাদেশের সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলক ভাবে যুক্ত থাকব।’’ সূত্রের খবর, খলিলুরের সফরের পরে একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসবে ভারত-বাংলাদেশ।

২০২৪ সালের অগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে হাসিনা ভারতে রয়েছেন। এই বিষয়টিকে ঘিরে সংবেদনশীলতা থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক কার্যক্রম’ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে বারবার। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে অচলাবস্থা সত্ত্বেও অংশীদারি যাতে স্থিতিশীল থাকে, তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে দু’দেশের দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। সে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও খুব শীঘ্রই ভারত সফরে আসবেন বলে খবর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন