হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর হয়ে বুধবার মুম্বইয়ে পৌঁছোয় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘শেনলং সুয়েজ়ম্যাক্স’। ছবি: পিটিআই।
বিনা বাধায় হরমুজ় প্রণালী পেরোল ভারতের দু’টি ট্যাঙ্কার। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে হরমুজ় পেরোয় ভারতের শিপিং কর্পোরেশনের দু’টি ট্যাঙ্কার— পুষ্পক এবং পিরামল। ওই দু’টি ট্যাঙ্কারের সঙ্গেই ছিল অন্যান্য দেশের তিনটি ট্যাঙ্কার। ওই ট্যাঙ্কারগুলিতে অবশ্য হামলা হয়েছে। ইরান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ভারতের ট্যাঙ্কারগুলিকে ছাড় দিয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবারই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আর এক প্রস্ত কথা বলেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তার পরেই তেহরান ভারতের ট্যাঙ্কার বা জাহাজগুলিতে হামলা না-চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদসংস্থা রয়টার্স ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, ইরান ভারতের জাহাজ কিংবা ট্যাঙ্কারকে বিনা বাধায় হরমুজ় পেরোতে দেবে। পর ক্ষণেই অবশ্য রয়টার্স ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, তেহরান এই সংক্রান্ত কোনও দাবি বা খবরে সিলমোহর দিচ্ছে না। অর্থাৎ, ভারতকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি ইরান, অন্তত আনুষ্ঠানিক ভাবে।
ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের অবশ্য দাবি, আরাঘচির সঙ্গে জয়শঙ্কর কথা বলার পরেই ইরানের হামলা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে হরমুজ় প্রণালী পেরোতে পারছে ভারতের জাহাজগুলি। ঘটনাচক্রে, বুধবারই হরমুজ় পেরিয়ে সৌদি আরব থেকে মুম্বই বন্দরে ঢোকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ। অশোধিত তেলভর্তি ওই জাহাজ অবশ্য হরমুজ় পেরোনোর সময় ট্রান্সমিটার বন্ধ রেখেছিল। অর্থাৎ, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের অবস্থান লুকিয়ে রেখেছিল। বুধবার রাতের পর হরমুজ পেরোনো ট্যাঙ্কারগুলি তেমন কৌশল অবলম্বন করেছিল কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
তবে এটা ঠিক, ওই ট্যাঙ্কার দু’টির সঙ্গে থাকা অন্য তিনটি ট্যাঙ্কার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। যা থেকে অনেকে মনে করছেন, ভারতীয় ট্যাঙ্কারের উপস্থিতি টের পেলেও হামলার পথে হাঁটেনি ইরান। ঘটনাচক্রে, বুধবার হরমুজ় প্রণালীতেই গুজরাতগামী একটি জাহাজে হামলা চালানো হয়। তাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ওই বাণিজ্যিক জাহাজটি গুজরাতের কান্ডালা বন্দরে আসছিল। হামলার পরেই জাহাজটির একাংশে আগুন ধরে যায়। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, ‘ময়ূরী নারী ব্যাংকক’ নামের ওই জাহাজটি থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করে ওমানের নৌসেনা। তবে তিন জন জাহাজের ভিতরেই আটকে পড়েন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ় প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইরান। ওই সরু প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করলেই হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তারা। হামলার আশঙ্কায় অধিকাংশ জাহাজই প্রণালীতে ঢোকার আগে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওমান এবং পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ় প্রণালী ইরান কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় তেল এবং গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারগুলি সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বার কথা হয়েছে জয়শঙ্করের। ইরানে এখনও প্রায় ৯০০০ ভারতীয় আটকে রয়েছেন বলেও জানিয়েছে জয়শঙ্করের মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই অনেকে ভারতে ফিরে এসেছেন। যাঁরা এখনও সে দেশে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ইরানস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। তাঁদের ইরানের দুই পড়শি দেশ আর্মেনিয়া এবং আজ়ারবাইজানের মাধ্যমে দেশে ফেরানোর চেষ্টা হচ্ছে।