জয়াম্মা গৌড়া। নিজস্ব চিত্র
দেড় বছর ভিক্ষে করার পর মেয়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরলেন বৃদ্ধা। অসমের করিমগঞ্জ থেকে কর্নাটকের হাসানে। সৌজন্যে বিএসএফ।
কথায় বলে, ভাষা কোনও প্রতিবন্ধক নয়। কিন্তু ভাষার জন্যই দেড় বছর ধরে ভিক্ষে করে দিন কাটালেন মধ্যবিত্ত কন্নড় পরিবারের গৃহকর্ত্রী জয়াম্মা গৌড়া। অসমের করিমগঞ্জ জেলায় সুতারকান্দি সীমান্ত চৌকির পাশে তাঁকে দেখতে পান প্রহরারত বিএসএফ জওয়ানরা। মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দেয় তাদের। জানতে চান তাঁর নাম-ঠিকানা। কিন্তু ৭০ বছরের বৃদ্ধার কোনও কথা তাঁরা বুঝতেই পারছিলেন না। খবর পাঠান কম্যান্ডিং অফিসার ছোটে লালের কাছে। তিনিই দক্ষিণ ভারতীয় এক জওয়ান, সহিল জবউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন সেখানে। সহিলের সহায়তায় তাঁরা জানতে পারেন, জয়াম্মা গৌড়ার বাড়ি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার নিজের জেলা কর্নাটকের হাসানে। গ্রামের নাম মাণ্ডিগনহাল্লি। ভুল করে বেঙ্গালুরু-আগরতলা হামসফর ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন তিনি। বিষয়টি যখন বুঝতে পারেন, তখন তিনি অসমের করিমগঞ্জ জেলায়। সেখানেই নেমে পড়েন। কিন্তু ভাষার সমস্যায় কোনও দক্ষিণমুখী ট্রেনের আর খোঁজ পাননি। হাতের টাকা শেষ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে ভিক্ষে করতে শুরু করেন। বিএসএফ-এর পক্ষ থেকেই ৭০ বছরের বৃদ্ধার বক্তব্য ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হাসান জেলা পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়।
তিন দিন আগে ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যের মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো দেখে চমকে ওঠেন সুনন্দা। এ যে তাঁর মায়ের ছবি, মায়ের কথা! যোগাযোগ করেন হাসান পুলিশের সঙ্গে। তাঁদের মাধ্যমেই সেখান থেকে করিমগঞ্জ বিএসএফের সঙ্গে কথা হয়। মায়ের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন। বিএসএফই বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি বাড়িতে রাখেন। খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেন। কাপড়চোপড়, কম্বল দেন।
রবিবার সুনন্দা বিমানে বেঙ্গালুরু থেকে শিলচরে আসেন। সেখান থেকে যান করিমগঞ্জের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায়। মা-মেয়ে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে সে কী কান্না! সীমান্ত প্রহরীরাও তখন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। পরে মাকে নিয়ে সুনন্দা বিমানেই বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা দেন।