কাশ্মীরের মসজিদগুলি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। কিন্তু তাদের এই অভিযান এবং এর ফলে বিভিন্ন মহলে তৈরি হওয়া অসন্তোষ নিয়ে খবর করার জন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির পুলিশ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ডেকে পাঠিয়ে হয়রান করে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অবশ্য দাবি, প্রতিবেদনে উল্লিখিত কিছু বিষয় যাচাই করার জন্য সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।
নিজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি খবরের কাগজের জম্মু-কাশ্মীর বুরোর প্রধান বাশারত মাসুদ লিখেছিলেন, প্রতিটি মসজিদের কাঠামোর বিবরণ থেকে শুরু করে তা নির্মাণের খরচ, তহবিলের উৎস, সংশ্লিষ্টদের আর্থিক অবস্থা, ব্যাঙ্ক, পাসপোর্ট, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ডের মতো তথ্য সংগ্রহ করছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন উপত্যকার নেতাদের উদ্ধৃতি-সহ খবরটি করেছিলেন তিনি। তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। আরও একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি কাগজের সাংবাদিকও পুলিশের তলব পেয়েছেন। একাধিক স্থানীয় সাংবাদিককেও ডেকে পাঠিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও তাদের সাইবার শাখা। কাউকে ১০ দিন টানা হাজিরা দিতে হয়েছে। বাশারতের সংবাদপত্র বলেছে, ‘শ্রীনগরের সাইবার থানায় চার দিন ডেকে পাঠানো হয় বাশারতকে। একটি মুচলেকায় সই করতে বলা হয়, কিন্তু তিনি তা করেননি।’ একটি সংবাদ পোর্টালের দাবি, মুচলেকায় লিখতে বলা হয়েছিল, সাংবাদিক হিসেবে এমন ‘ভুলের’ পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
শুধু মসজিদ নয়, সেখানকার মাদ্রাসা ও ধর্মীয় নেতাদের তথ্যও নিচ্ছে পুলিশ। হুরিয়ত নেতা মিরওয়াইজ় উমর ফারুক এক্স-এ লিখেছেন, ‘ধর্মস্থান যেমন নজরদারির নিশানা হতে পারে না, তেমনই তথ্য তুলে ধরাটাও অপরাধ নয়। সাংবাদিকদের মুচলেকা দিতে বাধ্য করাটা নিন্দনীয়।’ জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতির কথায়, “কাশ্মীর পরিণত হয়েছে দান্তে-বর্ণিত নরকে। জর্জ অরওয়েলের বইয়ের (‘১৯৮৪’) মতো মসজিদ ও ইমামদের উপরে নজরদারি চলছে। যাঁরা সরকারের এই বেআইনি কাজ তুলে ধরছেন, তাঁদেরই ডেকে পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’ সর্বভারতীয় খবরের কাগজের সাংবাদিকদের এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের অবস্থা কী হবে— উদ্বিগ্ন প্রশ্ন বর্ষীয়ান সাংবাদিক নিরুপমা সুব্রহ্মণ্যনের। এক্স-এ তাঁর এই সংক্রান্ত পোস্টটি তুলে ধরে জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা নাসির হুসেন দাবি জানান, নিয়মমাফিক খবর করার জন্য কাউকে যাতে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা না হয়, সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট নির্দেশিকা বেঁধে দিক কেন্দ্র।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে