Sabarimala Gold Theft

শবরীমালায় সোনা চুরি: মূল অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণনকে জামিন দিল কেরলের আদালত, শিল্পপতির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

শবরীমালায় ভগবান আয়াপ্পার মন্দিরের শ্রীকোভিল (গর্ভগৃহ)-এর দরজার ফ্রেম থেকে সোনা খোয়া যাওয়ার মামলায় বুধবার বেঙ্গালুরুর শিল্পপতি উন্নিকৃষ্ণনকে জামিন দিয়েছে কেরলের আদালত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৬
Share:

শবরীমালায় সোনা উধাও কাণ্ডে জামিন পেলেন অভিযুক্ত শিল্পপতি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শবরীমালার মন্দিরের দরজা থেকে সোনা ‘উধাও’ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণন পট্টিকে জামিন দিল কেরলের আদালত। বুধবার অভিযুক্ত শিল্পপতিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে জামিন পেলেও এখনই জেলমুক্তি হচ্ছে না উন্নিকৃষ্ণনের। মন্দিরের দ্বারপালকের বিগ্রহ থেকে সোনা উধাওয়ের মামলায় আপাতত জেলেই থাকতে হবে তাঁকে।

Advertisement

শবরীমালায় ভগবান আয়াপ্পার মন্দিরের শ্রীকোভিল (গর্ভগৃহ)-এর দরজার ফ্রেম থেকে সোনা খোয়া যাওয়ার মামলায় বুধবার বেঙ্গালুরুর শিল্পপতি উন্নিকৃষ্ণনকে জামিন দিয়েছে কেরলের আদালত। কারণ, ৯০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়া সত্ত্বেও ওই মামলায় চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সেই যুক্তিতে উন্নিকৃষ্ণনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। তবে, মন্দিরের দ্বারপালকের বিগ্রহ থেকে সোনা হারানোর মামলাতেও শিল্পপতির নাম জড়িয়েছে। তাই আপাতত জেলমুক্তি হচ্ছে না উন্নিকৃষ্ণনের।

শবরীমালা মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে সোনা উধাওয়ের ঘটনায় প্রথমে তদন্ত শুরু করেছিল ত্রাবাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ড (টিডিবি)-এর তদন্তকারী দল। কেরল হাই কোর্টে জমা দেওয়া তদন্তকারীদের রিপোর্টেও মূল অভিযুক্ত হিসাবে উন্নিকৃষ্ণনের নাম ছিল। অভিযোগ, ওই শিল্পপতির আয়ের স্থায়ী কোনও উৎস ছিল না। তা সত্ত্বেও মন্দির কর্তৃপক্ষকে সোনা দান করতেন তিনি। শুধু টিডিবি নয়, পরে সিট-ও এ বিষয়ে একমত হয়েছিল যে, শিল্পপতির আয়ের কোনও উৎস নেই। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে কামাক্ষী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকেছিল উন্নিকৃষ্ণনের অ্যাকাউন্টে। কেন সেই টাকা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়। পরে ওই মামলায় একে একে টিডিবি-র দুই প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্তা-সহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করে সিট। জানা যায়, উন্নিকৃষ্ণনের হাতে সোনার পাত এবং অন্যান্য বহুমূল্য জিনিস তুলে দিয়েছিলেন টিডিবি-র অভিযুক্ত কর্তারাই। টিডিবি-র রেজিস্টার ঘেঁটেও সে সম্পর্কে স্পষ্ট প্রমাণ মেলে।

Advertisement

শবরীমালায় সোনারহস্যের সূত্রপাত ২০১৯ সালে। তখনই প্রথম গর্ভগৃহের দরজা এবং দ্বারপালকের মূর্তি থেকে সোনা উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে বিগ্রহের ওজন ছিল ৪২ কেজি ৮০০ গ্রাম। কিন্তু পরে দেখা যায়, বিগ্রহের ওজন হয়ে গিয়েছে ৩৮ কেজি ২৫৮ গ্রাম! কী ভাবে বিগ্রহের ওজন এতটা কমে গেল, তা জানতে চেয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই ঘটনার তদন্তেই উঠে আসে উন্নিকৃষ্ণনের নাম। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বিগ্রহের মেরামতির জন্য ২০১৯ সালের জুলাই মাসে একবার মন্দিরের দ্বারপালক মূর্তি এবং দরজার সোনার আবরণ খোলা হয়েছিল। সে সময় সোনার ওজন ছিল ৪২.৮ কেজি। পরদিন ওই সোনা চেন্নাইয়ের একটি সংস্থায় পাঠানোর জন্য উন্নিকৃষ্ণনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সোনা চেন্নাইয়ে পৌঁছোয় ৩৯ দিন পর। সে সময় ওজন করতে গিয়ে দেখা যায় সোনার ওজন হয়ে গিয়েছে ৩৮.২৫ কেজি। অর্থাৎ, ৪.৫৪ কেজি সোনা উধাও! তদন্ত জানা যায়, মন্দিরের হিসাবরক্ষকেরা রেকর্ডে সোনার প্রলেপ দেওয়া মূর্তিগুলিকে ‘তামার তৈরি’ বলে লিখেছিলেন। ফেরত দেওয়ার সময় মূর্তিগুলি ঠিক ভাবে ওজনও করে দেখা হয়নি। যার ফলে বছরের পর বছর ধরে অলক্ষিতই রয়ে যায় সোনা উধাওয়ের বিষয়টি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement