কেরল উপকূলের কাছে ডুবন্ত লাইবেরিয়ার পণ্যবাহী জাহাজ। —ফাইল চিত্র।
আরব সাগরে লাইবেরিয়ার পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন কেরল সরকার। রাসায়নিক বোঝাই ওই জাহাজে বেশ কিছু ‘বিপজ্জনক’ বস্তুও রাখা ছিল। জাহাজের কিছু কন্টেনার জলের তোড়ে সমুদ্রের পারের দিকে এগিয়ে এসেছে। এই অবস্থায় সরকারি আধিকারিক এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন। পরিস্থিতির পর্যালোচনার পাশাপাশি আপৎকালীন প্রতিক্রিয়ার জন্য একটি নীল নকশাও তৈরি করতে চাইছেন তিনি।
কেরলের আলপ্পুড়া এবং কোল্লম উপকূলে বেশ কিছু কন্টেনার ভেসে আসতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৯টি এমন কন্টেনারের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যার বেশির ভাগই ফাঁকা ছিল। তবে কয়েকটি কন্টেনারের মধ্যে প্লাস্টিকের দানার মতো কিছু বস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সমুদ্রের পারে ভেসে আসা ওই প্লাস্টিকের দানাগুলি সরানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা তৈরি করছে কেরল প্রশাসন। উপকূলীয় অঞ্চলে কোথায় কী ভেসে আসছে, তার উপর নজরদারির জন্য ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি ১০০ মিটার অন্তর অন্তর স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কেরলের দমকল দফতর, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং স্থানীয় প্রশাসনও নজরদারি চালাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই জাহাজডুবির অঞ্চলের ২০ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধে আপাতত মাছধরা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ওই জাহাজে ৬৪০টি কন্টেনার ছিল। তার মধ্যে কিছু বিষাক্ত রাসায়নিকও রয়েছে। ওই রাসায়নিক নিয়ে কেরল উপকূলে জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর থেকে পরিবেশ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দানা বেঁধেছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের দফতর থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকারের প্রধান লক্ষ্য সাধারণ মানুষের সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং মৎস্যশিল্পকে বাঁচানো।
রাসায়নিক বোঝাই ওই বিদেশি জাহাজটি গত শনিবার থেকে হেলতে শুরু করেছিল। ওই দিন দুপুর ১টা ২৫ মিনিট নাগাদ ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠায় লাইবেরিয়ার ওই পণ্যবাহী জাহাজ। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। রবিবার সকালে সেই জাহাজটি পুরোপুরি সমুদ্রে ডুবে যায়। উপকূলরক্ষী বাহিনী ওই জাহাজ থেকে ২১ জনকে উদ্ধার করে। পরে ভারতীয় নৌসেনা আরও তিন জনকে উদ্ধার করে।
আরব সাগরে ডোবার সময় লাইবেরিয়ার ওই পণ্যবাহী জাহাজে ৬৪০টি কন্টেনার ছিল। ১২টি কন্টেনারে ছিল বিষাক্ত রাসায়নিক ক্যালশিয়াম কার্বাইড। তা ছাড়াও ওই জাহাজে ৮৪.৪৪ মেট্রিক টন ডিজ়েল এবং ৩৬৭ মেট্রিক টন অন্য জ্বালানি তেল রয়েছে বলে জানা যায়। সেগুলি ডুবন্ত জাহাজ থেকে পড়ে গিয়ে সমুদ্রে মিশছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।