নীরব মোদী। —ফাইল চিত্র।
ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত নীরব মোদীর আবেদন আবার খারিজ করল লন্ডন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার লর্ড জাস্টিস স্টুয়ার্ট স্মিথ এবং জাস্টিস জের বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘ভারতের দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে’ নীরবের প্রত্যর্পণ-বিরোধী আবেদন খারিজ করা হয়েছে। এই নিয়ে তৃতীয় বার লন্ডন হাই কোর্ট ১৩,০০০ কোটি টাকার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত গুজরাতের হিরে ব্যবসায়ীর আবেদন খারিজ করল।
গত ডিসেম্বরে এই মামলার শুনানিতে যোগ দিতে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র একটি দল লন্ডনে গিয়েছিল। কেন নীরবের আর্জি খারিজ করা উচিত, সেই নিয়ে নথিও জমা করেছিল তারা। তার জবাব দেওয়ার জন্য হিরে ব্যবসায়ীর আইনজীবীদের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছিল লন্ডনে হাই কোর্ট। এই মামলায় যে আইনজীবীরা ভারতের হয়ে সওয়াল করছেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলেছিল তদন্তকারীদের দলটি। এর আগে নীরব ‘দৃষ্টিশক্তির গুরুতর সমস্যা’ এবং ‘মানসিক অবসাদে’র যুক্তি দিয়ে ভারতে প্রত্যর্পণ না-করার আর্জি জানিয়েছিলেন লন্ডন হাই কোর্টে। এ বার তিনি পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী সঞ্জয় ভান্ডারির মামলার রায়ের ভিত্তিতে নিজের মামলার শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। ভান্ডারির ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির দ্বারা নির্যাতনের সম্ভাবনার কারণে প্রত্যর্পণ বাতিল করা হয়েছিল। মানবাধিকারজনিত কারণে লন্ডন হাই কোর্ট ভান্ডারিকে প্রত্যর্পণের নির্দেশ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল।
কিন্তু নীরবের আর্জি খারিজ করে, হাই কোর্ট অফ জাস্টিস, কিংস বেঞ্চ ডিভিশনের বেঞ্চ বলেছে, তারা ভারতের সরকারের ‘নোট ভারবাল’-এ দেওয়া আশ্বাসের উপর নির্ভর করছে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ইতিমধ্যেই ব্রিটেনকে জানিয়েছে, ভারতে এসে কেবল বিচারের সম্মুখীন হতে হবে নীরবকে। তাঁকে কোনও তদন্তকারী সংস্থা জেরা করবে না বা হেফাজতে নেবে না। যদিও নীরবের আইনজীবী দাবি করেন, ভারতে প্রত্যপর্ণ করলে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন তাঁর মক্কেল ২০১৮ সালে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণখেলাপের মামলায় অভিযুক্ত হন হিরে ব্যবসায়ী নীরব। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ‘ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’ ঋণ প্রতারণা মামলাতেও অভিযুক্ত হন তিনি। ইডি তাঁকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে। ২০১৯ সালে ব্রিটেনে গ্রেফতার করা হয় নীরবকে। সেই থেকে তিনি লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় এক জেলে বন্দি রয়েছেন।