গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বড় ছেলে ডাক্তারি পড়ছে। তাই ছোট ছেলেকে ডাক্তারি পড়াতে লক্ষ-লক্ষ টাকার বিনিময়ে নকল প্রশ্নপত্রের সওদা করতে পিছপা হয়নি রাজস্থানের বিওয়াল পরিবার। তদন্তে নেমে বিওয়াল পরিবারের পরিচিত যারাই ডাক্তারি পাঠ্যক্রমে ভর্তি হয়েছে, তাদের সকলকে তদন্তের পরিধির মধ্যে নিয়ে আসছে সিবিআই। সব মিলিয়ে বিওয়াল পরিবার থেকেই গ্রেফতার হয়েছেন তিন জন— দীনেশ ও মাঙ্গিলাল নামে দুই ভাই এবং মাঙ্গিলালের ছেলে বিকাশ। যদিও বিওয়াল পরিবারের দাবি, বড় চাঁইদের বাঁচাতে তাদের সহজ নিশানাবানানো হচ্ছে।
নিটের প্রশ্ন ফাঁস মামলায় সিবিআই গত কাল দীনেশ ও মাঙ্গিলালকে গ্রেফতার করার পরেই বিকাশের নাম উঠে আসে। গত বছর নিট-এ উত্তীর্ণ হয়ে বিকাশ বর্তমানে সওয়াই মাধোপুরে ডাক্তারি পড়ছে। সিবিআই সূত্র বলছে, বিকাশের নিট পাশ করাই সন্দেহের আর্বতে রয়েছে। সম্ভবত গত বছরও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল, যা হাতে পেয়ে যায় বিকাশ। সিবিআই জানিয়েছে, বিকাশকে ওই প্রশ্নপত্র জুগিয়েছিল গুরুগ্রামের আয়ুর্বেদিক মেডিসিনের ছাত্র যশ যাদব। এ বছর ভাই আমনের জন্য ফের প্রশ্নপত্র চেয়ে যশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নাসিক থেকে ধৃত আয়ুর্বেদিক পাঠ্যক্রমের ছাত্র শুভম খয়নার ঠিক ওই সময়েই অর্থাৎ গত ২৯ এপ্রিল যশ যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শুভম জানায়, তার কাছে পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যা ও রসায়নের প্রায় ৫০০-৬০০ প্রশ্ন এমন রয়েছে, যা এ বারের নিট-এ আসতে পারে। সেগুলো পড়ে গেলে ভাল নম্বর পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। তদন্তকারীদের দাবি, এর পরেই টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ওইপ্রশ্নপত্র নাসিক থেকে আনিয়ে বিকাশ ও তার বাবা মাঙ্গিলালের কাছে দশ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে যশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ছেলে আমন ছাড়াও মাঙ্গিলাল পরিবারচেনা-পরিচিতের মধ্যে আরও যারা নিট পরীক্ষার্থী, তাদের কাছে ওই প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছিল।
সিবিআই জানিয়েছে, গত কাল গোড়ায় শুভম, দীনেশ ও মাঙ্গিলালকে গ্রেফতার করার পরে মাঙ্গিলালের ছেলে বিকাশ ও যশকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত পাঁচ ব্যক্তিকে আজ দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালত সাত দিনের জন্য সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ১৪টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আজ আরও দু’জনকে গ্রেফতারকরেছে সিবিআই। সূত্রের খবর, এ দিন রাতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনে নিট নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। উচ্চ শিক্ষাসচিব বিনীত জোশী, স্কুল শিক্ষাসচিব সঞ্জয় কুমার, এনটিএ-র ডিজি অভিষেক সিংহ-সহ আরও কর্তাব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সিবিআইয়ের সন্দেহ, যশ যাদবের দেওয়া প্রশ্নপত্রের সাহায্য নিয়েই ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পায় বিকাশ। তাই বিকাশ ছাড়া গত বছর বিওয়াল পরিবারের ও পরিচিতদের মধ্যে আর কারা ডাক্তারিতে সুযোগ পেয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে সিবিআই। ঘটনা হল, ওই সন্দেহ সত্যি হলে ধরে নিতে হবে ২০২৫ সালের নিট পরীক্ষারও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। সেটা সরকার ধরতে পারেনি বলে মনে করতে হবে এবং একই সঙ্গে তা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেবে নিট-সহ এ ধরনের যাবতীয় সর্বভারতীয় পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র দক্ষতা নিয়েও।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে