Meghalaya Honeymoon Murder Case

টাইপিংয়ের ভুলে ১০৩ হল ৪০৩! মেঘালয়কাণ্ডে ধৃত সোনমের গ্রেফতারিতে ‘অস্তিত্বহীন’ ধারা পুলিশের, তার জেরেই জামিন?

আদালত জানায়, গ্রেফতারের পর সোনমকে প্রথমে গাজ়িপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে কোনও আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছিল— সেই সংক্রান্ত কোনও নথি নেই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৯
Share:

(বাঁ দিকে) সোনম রাজবংশী এবং রাজা রঘুবংশী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

মেঘালয় মধুচন্দ্রিমা হত্যাকাণ্ডে কী ভাবে জামিন পেলেন ‘মূল অভিযুক্ত’ সোনম রঘুবংশী? প্রশ্ন তুলেছে মৃত রাজা রঘুবংশীর পরিবার। এমনকি সোনমের দাদার একই প্রশ্ন। তবে জামিনের নথি ঘেঁটে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশের সামান্য ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ ছিল গ্রেফতারি মেমো! অনেকের মতে সেই কারণেই সোনমের জামিন পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

Advertisement

কী সেই ত্রুটি? সোনমকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ যে গ্রেফতারি মেমো দিয়েছিল তাতে একটি ধারা নিয়েই যত গন্ডগোল। লেখা হয়েছিল ৪০৩ (১) ধারার কথা। উল্লেখ্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) ওই ধারার কোনও অস্তিত্বই নেই!

২০২৪ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধি ধারার পরিবর্তে বিএনএস চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই আইনে ৪০৩ (১) ধারার কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে খুনের মামলার ধারাটি ১০৩ (১)। মনে করা হচ্ছে, ওই মেমো যিনি লিখেছিলেন তিনি ৪০৩ (১)-র বদলে ১০৩ (১) ধারা লিখে ফেলেন। ভুলবশত ১ হয়ে যায় ৪! আদালত তার নির্দেশেও এই অস্তিত্বহীন ধারার কথা জানিয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৪০৩ (১) ধারার কোনও অস্তিত্ব না-থাকলেও ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ৪০৩ বলে একটি ধারা ছিল। তবে সেটি সম্পত্তি নিয়ে গন্ডগোলের কারণে দেওয়া হত।

Advertisement

আদালতে পুলিশের তরফে এটিকে ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’র যুক্তি দিয়েছে। যদিও সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে, তার সঠিক কারণ দেখানো হয়নি। ফলে ওই গ্রেফতারি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু তা-ই নয়, জামিন দেওয়ার সপক্ষে আদালত আরও বিষয় উল্লেখ করেছে।

আদালত জানায়, গ্রেফতারের পর সোনমকে প্রথমে গাজ়িপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে কোনও আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছিল— সেই সংক্রান্ত কোনও নথি নেই। এই কারণে সোনম আপত্তি জানাতে পারেননি।

স্বামী রাজাকে খুনের অভিযোগে ধৃত সোনমকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে শিলঙের আদালত। বিচারক জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া সোনম শিলং ছাড়তে পারবেন না। তবে তাঁর জামিনে সন্তুষ্ট নয় রাজার পরিবার। রাজার মা উমা রঘুবংশী সংবাদসংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘‘আমরা সিবিআই তদন্ত চাই। যে অপরাধ হয়েছে, তা সিবিআই দিয়ে তদন্ত করানো প্রয়োজন।’’ বোনের জামিন হলেও তাঁকে ঘরে ফেরাতে নারাজ সোনমের দাদা গোবিন্দ। তিনি বলেন, ‘‘শুনেছি সোনম জামিন পেয়েছে। সোনমের জন্য কোনও আইনজীবী দিইনি আমরা। সরকারি আইনজীবীই যা করার করছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement