(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং এমকে স্ট্যালিন (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আনা সংশোধনী বিলের তীব্র নিন্দা করে সরব হয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। আর তার পরেই কেরলের বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে সে রাজ্যের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টান ভোটারদের মন পেতে সক্রিয় হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তিরুভাল্লায় এক জনসভায় মোদী দাবি করেন, খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্যগুলির প্রায় সবক’টিতেই বিজেপি সরকার আছে এবং সেখানে যা উন্নয়ন হয়েছে, তা আগে কখনও হয়নি। কেরলে বিজেপি সরকার গঠন করলে সেখানেও খ্রিস্টানদের বিপুল উন্নতি হবে বলে সভায় জানান তিনি।
গত কাল কেন্দ্রের বিদেশি অনুদান বিলের সংশোধনী বিলের নিন্দা করে নাগারকয়েলে একটি সভায় স্ট্যালিন বলেন, ওই সংশোধনী বিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা করতেই তৈরি করা হয়েছে। ওই বিল ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য বিপদ। স্ট্যালিন বলেন, ‘‘এফসিআরএ আইনে সংশোধনের কারণে খ্রিস্টানরা গভীর ভাবে ক্ষুব্ধ। তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ওই বিলে।’’ স্ট্যালিনের অভিযোগ, বিলটি পাশ হলে হাজার হাজার খ্রিস্টান স্কুল ও কলেজ প্রভাবিত হবে। খ্রিস্টানদের অনুষ্ঠানে মোদীর উপস্থিতিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ও সব চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য!’’
কেরলে মোদীর এ দিনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে অ-বিজেপি অন্য দলগুলিও। তাদের বক্তব্য কেন্দ্রে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসা ইস্তক খ্রিস্টানদের উপর আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন গির্জায় ভাঙচুর, খ্রিস্টান যাজকদের মারধরের মতো ঘটনার পাশাপাশি বড়দিনের সময় প্রতি বছর খ্রিস্টানদের উপরে হামলার ঘটনা হলেও কেন্দ্র চুপ করে থেকে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়। এই প্রসঙ্গে অসম, ছত্তীসগঢ়, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, ওড়িশার মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে গির্জা, খ্রিস্টানদের স্কুলে হামলা, যাজকদের মারধরের উদাহরণ তুলে বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে শুধু খ্রিস্টানরাই নন, মুসলিম এবং জনজাতিরাও নিরাপদ নন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে