ফাইল চিত্র।
ঠিক সতেরো মাস আগে জম্মু ও কাশ্মীরকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মুড়ে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। দিল্লিতেও ছিল সাজ সাজ রব।
সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার উপলক্ষ্যে উপত্যকায় ওই 'যুদ্ধ পরিস্থিতি' তৈরি করেছিল কেন্দ্র। আশঙ্কা ছিল উত্তাল হবে কাশ্মীর। এর পর লাগাতার ধরপাকড় আর নিষেধাজ্ঞায় ঘরেবাইরে বিক্ষোভ ও প্রবল প্রতিক্রিয়া সামলে সদ্য সেখানে জেলা উন্নয়ন পর্যদের ভোট করেছে মোদী সরকার। আর সেটাকেই বিজ্ঞাপন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে তারা।
আজ জম্মু-কাশ্মীরের জন্য আয়ুষ্মান প্রকল্পের অনলাইন উদ্বোধনের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে কার্যত উপত্যকায় বিজেপির প্রচার সারলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নাম না-করে এক হাত নিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব তথা রাহুল গাঁধীকে। সম্প্রতি দেশে ‘গণতন্ত্র নেই’ বলে মন্তব্য করেন রাহুল। যাঁরা মোদীর সমালোচনা করেন, তাদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
মোদী আজ বলেন, “দিল্লিতে এমন অনেকে আছেন, যাঁরা আমাকে সব সময় অপমান করছেন। আমার সম্পর্কে কটূবাক্য প্রয়োগ করছেন। আমাকে গণতন্ত্রের পাঠ শেখানোর চেষ্টা করছেন। গণতন্ত্র কাকে বলে জম্মু-কাশ্মীরের জেলা উন্নয়ন পর্ষদের ভোটই তার উদাহরণ।”
এখানেই না-থেমে মোদীর বক্তব্য, এমন অনেক রাজনৈতিক শক্তি আছে, যারা গণতন্ত্র নিয়ে বড় বড় কথা বলে, অথচ তারাই এই গণতন্ত্র নিয়ে দ্বিচারিতা করছেন। কংগ্রেস-শাসিত পুদুচেরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও পুদুচেরিতে এখনও স্থানীয় প্রশাসনের ভোট হয়নি। অথচ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার এক বছরের মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরে পঞ্চায়েত পর্যায়ের ভোট হয়েছে।”
সেই ভোটে জম্মুতে বিজেপি ভাল ফল করলেও উপত্যকায় সে ভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। বিজেপি মোট ৬টি জেলায় জিতেছে। বিরোধী গুপকার জোট জিতেছে ১৩টি জেলায়। কিন্তু ভোটে ফলের চেয়ে ৩৭০-পরবর্তী জম্মু ও কাশ্মীরে সফল ভাবে ভোট করানোর কৃতিত্বকেই আজ তুলে ধরতে তৎপর ছিলেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ গণতন্ত্রকে মজবুত করেছেন। কোভিড এবং এই প্রবল ঠান্ডার মধ্যে যে ভাবে যুব থেকে প্রবীণরা স্বতস্ফূর্ত ভাবে ভোটে অংশ নিয়েছেন, তাতে আমি অভিভূত।’’
আরও পড়ুন: ব্রিটেনকে ৫ বছরে, জার্মানি-জাপানকে ১০ বছরে টপকাবে ভারতের অর্থনীতি
মোদী বলেন, "আমরা জম্মু ও কাশ্মীর সরকারে ছিলাম। কিন্তু আপনারা জানেন যে আমরা সরকার থেকে বেরিয়ে এসেছি। কারণ পঞ্চায়েত ভোট আয়োজনের দাবি আমরাই জানিয়েছিলাম। আমরা মনে করি জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষকে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অধিকার দেওয়া উচিত। এখন আপনাদের প্রতিনিধি এসেছেন, যাঁরা আপনাদের জন্য কাজ করবেন। মহাত্মা গাঁধীর গ্রাম স্বরাজ লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ।" শুধু গাঁধী নন, বাজপেয়ীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে অটলজির বিশেষ যোগ ছিল। যা এখন তাঁর দেখানো ইনসানিয়ৎ, জম্মুরিয়ৎ এবং কাশ্মীরিয়ৎ-এর পথে এগিয়ে যাচ্ছে।"