Yogi Adityanath- Mohan Bhagwat

ক্ষুব্ধ সব শ্রেণিই, মানভঞ্জনে যোগীকে বার্তা ভাগবতের

গত কাল রাতে যোগীর সঙ্গে ভাগবতের বৈঠকের পরে আজ সকালে রাজ্যের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য্য ও ব্রজেশ পাঠক আলাদা আলাদা করে সঙ্ঘপ্রধানের সঙ্গে দেখা করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৩
Share:

(বাঁ দিকে) যোগী আদিত্যনাথ এবং মোহন ভাগবত (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

আগামী বছর বিধানসভা ভোট উত্তরপ্রদেশে। অথচ গত ন’বছরের যোগী শাসনের শেষে দেখা যাচ্ছে, শাসক দলের উপর প্রবল ক্ষুব্ধ ব্রাহ্মণ, রাজপুতের মতো ‘উচ্চবর্ণ’। ‘পিছিয়ে থাকা’ সমাজ, দলিতদের সমর্থন নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছেন বিরোধী এসপি নেতা অখিলেশ যাদব। তলে তলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতীও। এই আবহে গত কাল লখনউয়ে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সূত্রের মতে, পরিস্থিতির রাশ টানতে বৈঠকে সব পক্ষকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন সঙ্ঘপ্রধান। আসন্ন যোগী মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে সব শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ছবি যাতে ফুটে ওঠে, সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

গত কাল রাতে যোগীর সঙ্গে ভাগবতের বৈঠকের পরে আজ সকালে রাজ্যের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য্য ও ব্রজেশ পাঠক আলাদা আলাদা করে সঙ্ঘপ্রধানের সঙ্গে দেখা করেন। সূত্রের মতে, ওই দুই বৈঠককে ‘ফিডব্যাক’ বৈঠক হিসাবে দেখা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে যোগীর সঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদের সম্পর্ক কোনও দিনই মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি ইউজিসি বিতর্ক, মণিকর্ণিকা ঘাটের সংস্কার, শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দকে ঘিরে বিতর্কের ফলে দু’নেতার মধ্যে বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে। মানুষের মনে সরকারের প্রতি যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা ক্রমশ সামনে আসছে। সূত্রের মতে, ওই আবহে ওবিসি সমাজের নেতা কেশবপ্রসাদের সঙ্গে ভাগবতের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মতো ওবিসি-বহুল রাজ্যে ওই সমাজের সমর্থন পিছন থেকে সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি যে তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে উভয় পক্ষের। সত্যিই যদি ওবিসি ও পিছিয়ে পড়া সমাজ পিছন থেকে সরে যায়, সে ক্ষেত্রে সরকার ধরে রাখা যে কঠিন, তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন বিজেপি তথা সঙ্ঘ শীর্ষ নেতৃত্ব।

ওবিসি, দলিত ছাড়াও ব্রাহ্মণ ও রাজপুত সমাজও প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে যোগীর বিরুদ্ধে। মন্ত্রিসভা ও দলে যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রাহ্মণেরা। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি পঙ্কজ চৌধরি নিজের ‘টিম’ ঘোষণা করতে চলেছেন। কুর্মি সমাজের ওই নেতা নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ক’জন উচ্চবর্ণের নেতাকে রাখবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের এক বছর আগে উত্তরপ্রদেশে এক সময়ে বিজেপির পক্ষে থাকা সামাজিক সমীকরণ রীতিমতো তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনীতিকেরা। সূত্রের মতে, তাই পরিস্থিতি সামলাতে, ক্ষোভ প্রশমনে সব পক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে চলার জন্য যোগীকে পরামর্শ দিয়েছেন ভাগবত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন