বন্ধুত্ব পাতিয়ে লুঠ করে পাসপোর্টটা ফেরত পাঠাতেন ‘সহৃদয়’ বৃদ্ধ

চোখে রোদ চশমা, মাথায় টুপি, কাঁধে ট্রাভেল ব্যাগ। আপাদমস্তক যাকে বলে টিপ-টপ। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সাতটি ভাষায় অনর্গল কথাও বলতে পারেন। খুব সহজেই অচেনা মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতেও তাঁর বিকল্প নেই।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৫ ১২:৫৯
Share:

কিশোর সুব্রহ্মণ্যম মাদ্দালি। ছবি: টুইটার।

চোখে রোদ চশমা, মাথায় টুপি, কাঁধে ট্রাভেল ব্যাগ। আপাদমস্তক যাকে বলে টিপ-টপ। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সাতটি ভাষায় অনর্গল কথাও বলতে পারেন। খুব সহজেই অচেনা মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতেও তাঁর বিকল্প নেই। তবে সাবধান! ৬১ বছরের এই বৃদ্ধের থেকে খানিক দুরত্ব বজায় রাখাই ভাল। তা না হলে আপনার মূল্যবান জিনিসটি খোয়াতে পারেন যে!

Advertisement

আর হয়েছেও তাই। বৃদ্ধের বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্যের হাত ধরে এখনও পর্যন্ত প্রতারিত পাঁচ বিদেশি। কিশোর সুব্রহ্মণ্যম মাদ্দালি নামে ওই বৃদ্ধের কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে তাঁদের ব্যাগ। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত। বিদেশিরা প্রত্যেকেই নিজের দেশে ফিরতে পারবেন। প্রতারণা করে ব্যাগ হাতিয়ে নিলেও সময় মতো পাসপোর্টটি তিনি ফিরিয়ে দেন যে।

বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে রেল স্টেশন থেকে হাতে নাতে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। এ দিন প্ল্যাটফর্মে ম্যাঙ্গালোর এক্সপ্রেস ঢোকার পরেই এক বিদেশির সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। কিছু পরেই তিনি ওই পর্যটকের ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই সাধারণ পোশাকে প্ল্যাটফর্ম চত্বরে ঘুরে বেড়ানো পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে।

Advertisement

তাঁর কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত পাঁচ বিদেশির ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আরও অনেকের সঙ্গেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের অনুমান।

কী ভাবে প্রতারণা চালান তিনি?

তেলগু, মালায়লাম, তামিল, ইংরাজি-সহ সাতটি ভাষায় তিনি পারদর্শী। তাঁর টার্গেট মূলত বিদেশিরাই। মুম্বইয়ে সিএসটি রেল স্টেশনে ঘুরে বেড়ান। ট্রেন থেকে কোনও বিদেশি নামলেই সাহায্যের অছিলায় তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নেন। তার পর সুযোগ বুঝে ব্যাগ হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেন। তবে পরে ঠিকানা খুঁজে বের করে ব্যাগে থাকা পাসপোর্ট বা গুরুত্বপূর্ণ নথি ফিরিয়ে দেন তাঁদের। কিছু দিন আগেই সৌদি আরবের এক নাগরিকের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। পাসপোর্ট ফিরে পেয়েছেন নাইজেরিয়ার বাসিন্দা রুকো মিগাও। তামিলনাড়ুর আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন রুকো। ডাকে করে তাঁর পাসপোর্ট ফিরে পান তিনি। পরে আবার ওই বৃদ্ধ পাবলিক বুথ থেকে ফোন করে তিনি পাসপোর্ট পেয়েছেন কি না তা-ও জানতে চান।

অন্ধপ্রদেশের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করতেন। ৫৮ বছর বয়সে কাজ থেকে অবসর নেন। তার পর থেকে তিনি একাই থাকেন। অত্যধিক মদ্যপানের জন্য স্ত্রী এবং সন্তান ছেড়ে চলে গিয়েছেন। নেশার টাকা জোগাড় করতেই তিনি ইদানীং এই কাজে নেমেছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement