National News

বড়োভূমিতে প্রধানমন্ত্রী, আশ্বাস অ-বড়োদেরও

কয়েক দশক ধরেই বড়োভূমির জনসভা মানেই ছিল অসমকে দ্বিখণ্ডিত করার ডাক।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৪:০২
Share:

বক্তা: কোকরাঝাড়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার। ছবি: এপি।

প্রেক্ষাপট, বড়ো শান্তি চুক্তি। মঞ্চ, বড়োভূমির কোকরাঝাড়। সেখানে দাঁড়িয়ে আফস্পা থেকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন—সবই ছুঁয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘‘বড়ো যুবকদের অস্ত্র জমা দিয়ে মূল স্রোতে ফেরার ঘটনা দেখে কাশ্মীরের উগ্রপন্থী ও নকশালদের শেখা উচিত কী ভাবে শান্তির পথেও দাবি মিটিয়ে সার্বিক উন্নয়নে শরিক হওয়া সম্ভব।’’ তিনি আহ্বান জানান, ‘‘এখনও বোমা-বন্দুকে ভরসা রাখা যুবকরা শান্তির পথে এসে একবার নতুন ভাবে বাঁচুন।’’

Advertisement

কয়েক দশক ধরেই বড়োভূমির জনসভা মানেই ছিল অসমকে দ্বিখণ্ডিত করার ডাক। আজ বড়োদের ‘বিজয় উৎসব’-এ ঢাল-তলোয়ার আঁকা হলুদ পতাকা আর তেরঙা একসঙ্গে উড়েছে! সিএএ বিরোধী প্রতিবাদের জেরে গত মাস দুয়েকে দু’দফায় মোদীর অসম সফর বাতিল হয়। এক মাসের মধ্যেই উল্টে গেল ছবিটা। আসুর তরফে জানানো হয়, সম্প্রীতির স্বার্থে মোদীর সফর বয়কট করা হবে না। মোদীকে স্বাগত জানাতে এদিন ৭০ হাজার মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। গত কাল পর্যন্তও বড়ো চুক্তি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরোধিতা করা অবড়োদের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান, আগামী ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারের সঙ্গে অবড়োদের বৈঠক হবে। পরে কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনার জন্য দিল্লি যাবে অবড়ো নেতৃত্ব। এরপরেই বন্‌ধ প্রত্যাহার করা হয়।

হিমন্ত ও বিটিসি প্রধান হাগ্রামা মহিলারির দাবি, বড়ো-বাঙালি অন্য জনগোষ্ঠী মিলিয়ে চার লক্ষাধিকের সমাগম হয়েছে আজকের সভায়। সিএএ বিরোধিতায় ফুঁসতে থাকা অসমিয়াদের কাছে টানতে বক্তৃতার ছত্রে ছত্রে শ্রীমন্ত শঙ্করদেব, ভূপেন হাজরিকার শ্লোকে, গানে ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘আমায় ফেলে দেওয়ার কথা অনেকে বলছে। কিন্তু এত মা ও মানুষের আশীর্বাদ রক্ষাকবচ হয়ে আমায় রক্ষা করবে। ভুটান, মায়ানমারের জঙ্গলে লড়তে থাকা বড়ো সন্তানরা মায়ের কোলে ফিরেছেন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: মোদীর কথা বাদ পড়ল রেকর্ড থেকে

তাঁর আশ্বাস, বড়ো চুক্তিতে অবড়োদের ক্ষতি হবে না। সকলেই বিকাশের সুফল পাবেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আগের সরকার রাজনৈতিক কারণেই সমস্যাগুলি জিইয়ে রেখেছিল। ফলে মানুষ সংবিধানে আস্থা হারিয়েছিলেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি উৎস থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে বলেই বড়ো সমস্যা, ত্রিপুরার রিয়াং শরণার্থী সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে। এনএলএফটির সঙ্গে শান্তি চুক্তি হয়েছে। মূল স্রোতে ফিরছেন অসমের জঙ্গিরা। মেঘালয়, মিজোরাম, অরুণাচল, ত্রিপুরার অধিকাংশ এলাকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে আফস্পা।’’

ভূপেন হাজরিকাকে গুজরাতের জামাই হিসেবে সম্বোধন করে মোদী বলেন, ‘‘রাষ্ট্র বিরোধী শক্তি সিএএ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বলা হচ্ছে সিএএ-র মাধ্যমে বাইরের লোক এসে জমি দখল করবে। সব মিথ্যে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement