Modi's Strategy

বঙ্গ বিজয়ের বার্তা দক্ষিণে, ইন্ডিয়ায় বিবাদ-ইন্ধন মোদীর

তেলঙ্গানায় বিজেপির শক্তি কম। তাই তেলঙ্গানায় রাজধানী হায়দরাবাদে তিনি বাংলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, মাত্র দশ বছর আগে বাংলায় বিজেপির মাত্র তিন জন বিধায়ক ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ০৮:২৮
Share:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এক দিকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনকে সামনে রেখে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে দলীয় কর্মীদের নতুন করে চাঙ্গা করার কৌশল নিলেন। অন্য দিকে, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেসের ‘তলপতি’ বিজয়কে সমর্থনের উদাহরণকে সামনে রেখে বিরোধীদের ইন্ডিয়া মঞ্চে বিবাদ উস্কে দিলেন। শনিবার কলকাতায় বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পরে সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকা দূরের কথা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জোড়া কৌশল নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন।

আজ মোদীর কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক ও তেলঙ্গানায় কর্মসূচি ছিল। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্বের পাশাপাশি, তিনি ইন্ডিয়া-র মধ্যে ফাটল উস্কে দিয়েছেন। তেলঙ্গানায় বিজেপির শক্তি কম। তাই তেলঙ্গানায় রাজধানী হায়দরাবাদে তিনি বাংলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, মাত্র দশ বছর আগে বাংলায় বিজেপির মাত্র তিন জন বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু এখন ২০০ জনের বেশি বিধায়ক নিয়ে বিজেপি সরকার এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়কে গোটা দেশের বিজেপি কর্মীদের জয় হিসেবে তকমা দিয়ে মোদী বলেছেন, ‘‘বিজেপির জয় তেলঙ্গানার বিজেপি কর্মীদেরও উৎসাহিত করে তুলেছে বলে মনে হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, কেরলে বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা এক থেকে বেড়ে তিন জন হয়েছে। আগামী দিনে বিজেপি তথা এনডিএ-র সংখ্যা কেরলেও তিন থেকে বেড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছে যাবে। সেই দিন বেশি দূরে নয়। মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল নিজের স্বৈরাচারী মডেলে বাংলাকে শিকল পরিয়ে রেখেছিল। বাংলার মানুষ সেই ভয়াবহ স্বৈরাচারী মডেলকে হারিয়ে দিয়েছে। তাই গোটা দেশে উৎসব হচ্ছে। মনে হচ্ছে, বাংলার মানুষ বহু বছর পরে খোলা মনে শ্বাস নিচ্ছেন।’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলা থেকে পুদুচেরি, অসম থেকে ওড়িশা, এটা শুধু নির্বাচনী বিস্তার নয়। রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তনের সঙ্কেত। জনতা এখন পরিবারবাদ নয়, বিশ্বাসবাদের পক্ষে ভোট দেয়।’’

তামিলনাড়ুতে বিজয়ের টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসার পরে কংগ্রেস বিজয়কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ডিএমকে লোকসভায় কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব রেখে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেসের শরিকদের হাত ছেড়ে দেওয়ার সমালোচনা করেছে সমাজবাদী পার্টি। আজ সকালে চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথে হাজির ছিলেন রাহুল গান্ধী। বিজয় রাহুলকে ‘মাই ব্রাদার’ বলে সম্বোধন করেছেন। কংগ্রেস বিজয়ের সঙ্গে সমঝোতা করে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে ভাল ফলের আশা করছে। এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে সরকারে কংগ্রেসের মন্ত্রী না থাকলেও তামিলনাড়ুর নতুন বিজয়ের সরকারে কংগ্রেসের মন্ত্রী থাকবেন বলে সূত্রের খবর।

রাহুল যখন বিজয়ের শপথগ্রহণে উপস্থিত, ঠিক সেই বেঙ্গালুরু থেকে কংগ্রেসের প্রতি ডিএমকে, এসপি-র ক্ষোভ উস্কে দিয়ে মোদী বলেন, ‘‘কংগ্রেস পরজীবী দলে পরিণত হয়েছে। প্রথম সুযোগ পেলেই শরিকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তামিলনাড়ুতে দেখুন, গত ২৫-৩০ বছর ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকে-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই জোট কংগ্রেসকে বিপদের সময় রক্ষা করেছে। ইউপিএ সরকার দশ বছর ক্ষমতায় ছিল ডিএমকে-র সমর্থনে। অথচ যেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেল, কংগ্রেস ডিএমকে দলকে পিছন থেকে ছুরি মারল।’’

পাল্টা জবাবে কংগ্রেসের তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষক গিরিশ চোড়নকর বলেছেন, ‘‘বিজেপির এখনকার শীর্ষনেতারা তাঁদের মেন্টর লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশীর সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’’ তামিলনাড়ুর কংগ্রেস সাংসদ মণিকম টেগোর বলেন, ‘‘কংগ্রেস অন্তত নিজের শরিকদের গিলে ফেলে না।’’ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের বক্তব্য, তাঁর আশা, ডিএমকে ইন্ডিয়া মঞ্চেই থাকবে। বিজয়ের টিভিকে ইন্ডিয়া-য় যোগ দেবে। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, হাইকমান্ড ডিএমকে নেতৃত্বকে জানিয়েই বিজেপি তথা এনডিএকে ঠেকাতে বিজয়কে সমর্থন করেছে। মোদী হায়দরাবাদে কংগ্রেসকে পাল্টা নিশানা করে বলেছেন, ‘‘কংগ্রেস এখন ঘৃণার রাজনীতির প্রধান ভিত হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস বাম পার্টির থেকেও বেশি বাম, পুরোপুরি মাওবাদী হয়ে গিয়েছে। মুসলিম লিগের থেকেও বেশি কট্টর হয়ে উঠেছে। তাই মানুষ কংগ্রেসকে এমএমসি অর্থাৎ মুসলিম লিগি মাওবাদী কংগ্রেস বলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন