বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ ভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: পিটিআই।
বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে নিজের ভাষণ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৩ মিনিটের বক্তৃতায় আমেরিকার সঙ্গে ঝুলে থাকা বাণিজ্যিক বোঝাপড়া নিয়ে একটিও বাক্য খরচ করলেন না। ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অভিমুখ যে অনেকাংশে ইউরোপের দিকে ঘুরে যেতে পারে, সেই আভাসও মিলল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে।
ব্রিটেনের সঙ্গে আগেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট)-এর সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। মোদীর কথায়, ভবিষ্যতের পথ কতটা উজ্জ্বল, তারই একটি ঝলক হল ইউরোপের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি। তিনি বলেন, “এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চুক্তি। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের চুক্তি। আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি।”
ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে এই চুক্তিকে আগেও ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার ফের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে। এখন খুব সস্তায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে বলেও দেশবাসীকে জানান তিনি।
বস্তুত, গত বছরের অগস্টে ভারতীয় পণ্যের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেয় আমেরিকা। পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ‘জরিমানা’ বাবদ আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। দফায় দফায় আলোচনার পরেও সেই শুল্ক এখনও প্রত্যাহার করেনি আমেরিকা। এই শুল্ককোপের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশীয় রফতানিকারকদের উপরে।
বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হল বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম। উভয়ের উপরেও মার্কিন শুল্ক ভারতের তুলনায় কম। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেরিকার বাজারে চড়া শুল্কের জন্য কিছুটা ধাক্কা খেতে হয়েছে ভারতীয় রফতানিকে। বিকল্প বাজারের খোঁজও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদের বাইরে ইউরোপের বাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ‘ইউরোপময়’ বক্তৃতায় আমেরিকার নামোল্লেখ না করে কি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের আগামীর অভিমুখ বুঝিয়ে দিতে চাইলেন মোদী? প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরে সেই প্রশ্নও উঁকি দিতে শুরু করেছে।
ইউরোপীয় বাজার যে ভারত একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, তা-ও স্পষ্ট মোদীর কথায়। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে মোদী পরামর্শ দেন, অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে, সেখানে সস্তায় পণ্য রফতানি করা যাবে— এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সেরা মানের পণ্য রফতানির উপরে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সেরা মানের পণ্যের উপরে জোর দেওয়ার এটাই সুযোগ। সেরার সেরা মানের পণ্য নিয়ে বাজারে আসুন। তা হলে আমরা ইউরোপের ২৭টি দেশের ক্রেতাদের থেকে শুধু টাকাই আয় করব না, গুণমানের জন্য তাদের মনও জয় করতে পারব। কয়েক দশক ধরে যার প্রভাব থাকবে।”