রঙিন, স্মার্ট ভোটার কার্ড চালু

ফেসবুকে মানুষকে যতটা স্মার্ট দেখায়, ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্রে ততটাই খারাপ। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে নিয়মিত যে সমস্ত প্রবাদ ঘোরাফেরা করে তার মধ্যে এটা অন্যতম। কিন্তু বিহারে পাল্টে যাচ্ছে সেই প্রবাদ।

Advertisement

দিবাকর রায়

শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০১৫ ০৩:২৬
Share:

ফেসবুকে মানুষকে যতটা স্মার্ট দেখায়, ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্রে ততটাই খারাপ। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে নিয়মিত যে সমস্ত প্রবাদ ঘোরাফেরা করে তার মধ্যে এটা অন্যতম। কিন্তু বিহারে পাল্টে যাচ্ছে সেই প্রবাদ। ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্রের ছবিও এ বার ফেসবুকের মতোই স্মার্ট, ঝকঝকে হবে। আর কাগজের ল্যামিনেট করা পরিচয়পত্র পাল্টে হয়ে যাচ্ছে এটিএম কার্ডের মতোই ঝকঝকে। তবে বিনামূল্যে নয়, এর জন্য খরচ করতে হচ্ছে ৩০ টাকা। তাতে কী! বিহার জুড়ে এই নতুন কার্ড পেতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তরুণ-তরুণীরা।

Advertisement

পটনা মহিলা কলেজের শিক্ষিকা নিকিতা কুমারী বলেন, ‘‘নিজের ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্রের ছবি দেখে নিজেকেই চিনতে পারতাম না। নতুন কার্ডে ঠিকঠাক ছবি উঠেছে। ভাল লাগছে।’’ সিওয়ানের বাসিন্দা হরষিত ঝা মুম্বইয়ে চাকরি করেন। রঙিন সচিত্র পরিচয়পত্র পাওয়ার পরে বললেন, ‘‘এ বার কার্ডটা বেশ ভাল হয়েছে। ঠিকানাটাও আগের কার্ডে ভুল ছিল, সেটাও পাল্টে নিলাম।’’ নতুন প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই যে এই কার্ড, তা মেনেছেন সহকারী মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক আর লক্ষ্মণন। তিনি বলেন, ‘‘সারা রাজ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটার টাকা খরচ করে নতুন কার্ড তৈরি করিয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগেরই বয়স ৩৫-এর কম।’’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিহারের ৬ কোটি ৬৮ লক্ষ ভোটারের প্রায় ৯৯.৯ শতাংশের সচিত্র পরিচয়পত্র বিলি হয়ে গিয়েছে। তারপরেই নতুন ঝকঝকে পরিচয়পত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই পরিচয়পত্র তৈরির খরচ মেটাতে হবে ভোটারকেই। বিহারের ৩৮টি জেলাশাসকের কার্যালয়, ৫০টি মহকুমাশাসকের কার্যালয় এবং ১৪৩টি ব্লক কার্যালয়ের কমন সার্ভিস সেন্টারে এই নতুন পরিচয়পত্র তৈরি করানো যাবে। বাকি ৪০০ ব্লক অফিসেও শীঘ্রই এই কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যাঁদের পরিচয়পত্র রয়েছে তাঁদেরকেই এই রঙিন ভোটার সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা আগে ছিল। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় সদ্য ভোটার তালিকায় নাম ওঠা তরুণ-তরুণীরাও টাকা খরচ করে এই কার্ড করাতে পারবেন। আর এই ব্যবস্থা বিহার থেকেই শুরু করছে নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

প্রাথমিক ভাবে বিহারে নির্বাচন কমিশনের এই ব্যবস্থায় লাভ হয়েছে সারন, সিওয়ান এবং গোপালগঞ্জ জেলার নির্বাচকদের। দু-তিন দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে এই কার্ড। স্বাভাবিক ভাবে নির্বাচনের আগে কার্ড তৈরি করতেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন ভোটাররা। ভোটের আগে হিমসিম অবস্থা নির্বাচন কর্মী-অফিসারদের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement