নিতিন নবীন। —ফাইল চিত্র।
নির্বাচন কাগজে-কলমে। ইতিহাস বলছে বরাবরই বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদের ‘লড়াই’ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে এসেছেন একমাত্র মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীরা। এ বারেও বজায় রইল সেই ঐতিহ্য। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন দলের বর্তমান কার্যকরী সভাপতি নিতিন নবীন।
বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রী ৪৫ বছরের নবীনই বিজেপির ইতিহাসে তরুণতম সভাপতি। ১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠা। ঘটনাচক্রে, সে বছরই নিতিনের জন্ম। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায়ী সভাপতি জেপি নড্ডার হাত থেকে দলের দায়িত্ব নেবেন তিনি। ২০২০ সালে বিজেপি সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন নড্ডা। মোদী-মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও রয়েছে তাঁর কাঁধে। গত ডিসেম্বর মাসে বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিতিনকে। তখনই অনুমান করা হচ্ছিল তাঁর হাতেই উঠছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব। কারণ, তাঁর পূর্বসূরি নড্ডার ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল।
সূত্রের খবর, সভাপতি পদে নিতিনের নাম প্রস্তাব করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী। বস্তুত, নিতিনের সমর্থনে সোমবার প্রথম সেটের মনোনয়নটিও জমা পড়ে মোদীর নামে। এ ছাড়া তাঁর সমর্থনে মনোনয়ন জমা দেন প্রতি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিজেপি সভাপতি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং জাতীয় পরিষদের সদস্যেরা। সভাপতি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার তথা বিজেপি নেতা কে লক্ষ্মণ সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘‘নিতিনের সমর্থনে মোট ৩৭ সেট মনোনয়ন জমা পড়েছে। অন্য কোনও প্রার্থীর নামে মনোনয়ন জমা পড়েনি। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন নিতিন। সভাপতি নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ছিল দু’ঘণ্টা— দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে! সভাপতি হিসেবে নিতিনের দায়িত্ব গ্রহণের মাস দেড়েকের মধ্যে পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হতে চলেছে। এর মধ্যে অসম ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি ছাড়া বাকি তিন রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ, কেরল এবং তামিলনাড়ু) বিরোধীদের দখলে। এ বার বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বিজেপি নেতৃত্ব। সেই গুরুদায়িত্ব এ বার বিহারের পাঁচ বারের বিধায়ক নবীনের কাঁধে।