বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। — ফাইল চিত্র।
ভরা বিধানসভায় বিরোধীদের হট্টগোল, চিৎকার, কটাক্ষে মেজাজ হারালেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। বিরোধীদের তাঁর জবাব, ‘‘বাজে কথা বলবেন না। আমাদের সরকার কোনও ঝঞ্ঝাট ছাড়াই চলছে, আর চলবেও!’’
গ্রামের পাহারাদারদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় হট্টগোলের সূত্রপাত। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় অধিবেশন শুরু হওয়ার পর পরই হইচই বাধে। আরজেডি বিধায়ক কুমার সর্বজিৎ তাঁর আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে গ্রামের পাহারাদারদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, যখন পাহারাদারেরা নিজেদের ন্যায্য দাবিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেন, তখন তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়। আরজেডি বিধায়কের কথায়, ‘‘রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের কর্মী চৌকিদারদের বেতন বৃদ্ধির দাবি ছিল। কিন্তু সোমবার তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয়েছে।’’
সর্বজিতের অভিযোগের পরই আরজেডির কয়েক জন বিধায়ক স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, ‘‘গুলি-বন্দুকের সরকার চলবে না, চলবে না।’’ সেই স্লোগানে বিরক্ত হন নীতীশ। মেজাজ হারিয়ে নিজের আসন থেকে উঠে বিরোধীদের জবাব দেন তিনি। তাঁর দাবি, জেডিইউ নেতৃত্বাধীন সরকার কোনও বিরোধ ছাড়াই চলবে। নীতীশের আরও দাবি, আরজেডির ক্ষমতা বিহারে ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে।
নীতীশ বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনারা ক্ষমতায় থাকাকালীন বিহারে কোনও মূল্যবান কাজ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা এতটাই বেহাল ছিল যে, মানুষ বিকেলের পর আর ঘর থেকে বার হতে ভয় পেতেন। তাই এখন এই সব বাজে কথা না-বলাই ভাল।’’ তবে তাতেও দমেননি আরজেডির বিধায়কেরা। তাঁরা ক্রমাগত স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগান দিতে দিতে ওয়ালে নেমে আসেন। তার ফলে বেশ কিছুক্ষণ বিধানসভার কাজ বন্ধ থাকে। পরে বিহার বিধানসভার পরিষদীয় মন্ত্রী বিজয়কুমার চৌধরি জানান, পাহাদারদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডাকা হবে। খতিয়ে দেখা হবে তাঁদের দাবিগুলি। যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। তার পরেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।