ভুনঝাগিন ভালতে। — ফাইল চিত্র।
২ বছর ৯ মাস লড়াই করার পরে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মণিপুরের বিজেপি বিধায়ক ভুনঝাগিন ভালতে। গত কালও তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু রাতে হাসপাতাল জানায় এখনও জীবিত আছেন ভালতে।অবশ্য, আজ গুরুগ্রামের হাসপাতাল আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করে। বয়স হয়েছিল ৬২। ২০২৩ সালে, মণিপুর সংঘর্ষের দ্বিতীয় দিনে জখম হয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর তদানীন্তন উপদেষ্টা, তিন বারের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী ভুনঝাগিন ভালতেকে। কিন্তু, তাঁর বিশ্বাস ছিল তাঁকে কেউ আক্রমণ করবে না। ভুল ভাঙতে দেরি হয়নি। ইম্ফলের রাস্তায় সরকারি গাড়ি দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ে উন্মত্ত জনতা। পালায় এসকর্ট গাড়ি, পুলিশ। খুলিতে বড় আঘাত, ক্ষতবিক্ষত দেহে মৃতপ্রায় ভালতেকে রাস্তা থেকে পরে উদ্ধার করা হয়েছিল। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। প্রায় দুই বছর পরে থানলন বিধানসভা কেন্দ্রের ওই কুকি বিধায়ক কঙ্কালসার চেহারায় বাড়ি ফেরেন। একেবারেই হুইলচেয়ার-নির্ভর হয়ে পড়েছিলেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতেও পারতেন না। শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় ছিলেন। কুকি অধ্যুষিত এলাকাগুলির জন্য পৃথক প্রশাসনের দাবিতে আন্দোলনকারী ১০ জন কুকি-জ়ো বিধায়কের মধ্যে তিনিও অন্যতম ছিলেন। শেষ সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, কুকি, জোমি ও মার জনগোষ্ঠীর জন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা-সহ স্বায়ত্তশাসনই স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ। বলেছিলেন, কেন্দ্র সরাসরি আলোচনায় যুক্ত হলে তিনি অংশ নেবেন। সম্প্রতি তাঁর দৈহিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তত দিনে রাজ্যে ফের নির্বাচিত সরকার ফিরেছে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদের উদ্যোগে, ইম্ফল থেকে ফের বিমানে তাঁকে দিল্লি পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে