Mayawati

দলিত ভোট টানতে ডাক ব্র্যান্ড মায়ার

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বিএসপি (বহুজন সমাজ পার্টি)-র ভোটের হার যেখানে নগন্য, সেখানে শক্তিশালী বিরোধী দলের সঙ্গে জোট করার প্রশ্নে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহী মায়াবতীও। বিএসপি নেতৃত্বের আশা— এর ফলে আসন কমবে বিজেপির, লাভবান হবেন তারা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ১৮:১২
Share:

গোরক্ষপুর এবং ফুলপুর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মায়াবতী-অখিলেশ মডেলের সাফল্যের পর এ বার বিভিন্ন রাজ্যে মায়াবতীকে পাশে পেতে উৎসুক আঞ্চলিক বিরোধী দলগুলি। উদ্দেশ্য, ব্র্যান্ড মায়াবতীকে কাজে লাগিয়ে দলিত ভোট টানা।

Advertisement

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, বিএসপি (বহুজন সমাজ পার্টি)-র ভোটের হার যেখানে নগন্য, সেখানে শক্তিশালী বিরোধী দলের সঙ্গে জোট করার প্রশ্নে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহী মায়াবতীও। বিএসপি নেতৃত্বের আশা— এর ফলে আসন কমবে বিজেপির, লাভবান হবেন তারা। আবার পাল্টা যুক্তি, এর ফলে অন্য রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত দলিত নেতাদের (যেমন জিগনেশ মেবাণী) সঙ্গে মায়াবতীর যে রাজনৈতিক সংঘাত হবে, তাতে লাভ তুলে নিতে পারে বিজেপি। বিরোধী দলগুলি অবশ্য বলছে, সে সম্ভাবনা নেই। এই জোট বন্দোবস্ত একান্তই রাজ্যভিত্তিক এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে হচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই জোটের সাফল্য বা ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

সম্প্রতি হরিয়ানায় ওমপ্রকাশ চৌটালার দল আইএনএলডি জোট গড়েছে মায়াবতীর সঙ্গে। আগামী বছর সে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে একত্রে লড়বে দু’টি দল। সূত্রের খবর, নভেম্বরে রাজস্থানেও জোট করেই লড়বে বিএসপি-আইএনএলডি। মায়াবতী শিবিরের বক্তব্য, এর ফলে ভোট পরিসংখ্যানে নিশ্চিত ভাবেই লাভ হতে চলেছে তাদের। এমনিতে হরিয়ানায় মায়াবতীর দলের উপস্থিতি নগন্য। ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮৭টি আসনে লড়ে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছিল বিএসপি। ভোট পেয়েছিল ৪.৩৭ শতাংশ। অন্য দিকে হরিয়ানার মোট ৯০টি আসনের মধ্যে আইএনএলডি-র ভাঁড়ারে এসেছিল ১৯টি। তাদের প্রাপ্ত ভোটও কম নয়, ২৪.১১ শতাংশ। রাজ্যের দলিত জনসংখ্যা যে ২৫ শতাংশ তাও হিসাবের মধ্যে রাখছেন মায়াবতী।

Advertisement

কর্নাটকের আসন্ন নির্বাচনে লড়ার জন্য দেবগৌড়ার দল জেডি(এস)-এর সঙ্গেও হাত মিলিয়েছেন মায়াবতী। কর্নাটকে বিএসপি-র তেমন কোনও উপস্থিতি নেই। ২০১৩ সালের বিধানসভা ভোটে ১৭৫টি আসনে প্রার্থী দিয়ে শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছিল বিএসপি-কে। কিন্তু জেডি(এস)-এর আসন সে রাজ্যে ৪০টি। সূত্রের খবর, কর্নাটকের প্রায় ২০ শতাংশ দলিত জনগোষ্ঠীর দিকে তাকিয়ে মায়াবতীকে কাজে লাগাতে চাইছে জেডি(এস)। আর তাতে লাভ বই ক্ষতি নেই মায়ার।

বছর শেষে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ়ের বিধানসভা ভোটে বিএসপি-র সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কংগ্রেসও। ছত্তীসগঢ় থেকে বিজেপিকে হটানোর জন্যও মায়াবতীও কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চাইছেন বলে খবর। ২০০৩ থেকে আজ পর্যন্ত কোনও দল বিজেপিকে এই রাজ্যে টলাতে পারেনি। বিএসপি-র প্রবীণ নেতা তথা ছত্তীসগঢ়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এম এল ভারতী জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়তে তাঁরা প্রস্তুত। কিন্তু আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে রাহুল গাঁধীর কাছ থেকে তাঁরা সম্মানজনক শর্ত আশা করেন। তবে এটা ঠিক, উত্তরপ্রদেশের বাইরে অন্য রাজ্যের দলিত সম্প্রদায়ের সঙ্গে মায়াবতীর সরাসরি যোগাযোগ নেই। কিন্তু মায়ার প্রতীকী আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের দলিত ভোটব্যাঙ্ক ফায়দা পাওয়াটাই এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য বাকি দলগুলির।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement