স্ত্রী জ্যোতিকে ভ্যানে বসিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ওড়িশার বাবু লোহার। ছবি: সংগৃহীত।
স্ত্রী পক্ষাঘাতগ্রস্ত। টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছেন না। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে হবে। তার পর একবিন্দুও ভাবেননি। টাকার অভাবে অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করতে পারেননি। নিজের একমাত্র সম্বল ভ্যানেই স্ত্রীকে বসিয়ে দিলেন ওড়িশার সম্বলপুরের বাবু লোহার। তার পর থেকে যাত্রা শুরু।
বাবুর বয়স পঁচাত্তর। স্ত্রী জ্যোতির বয়স সত্তর। পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর চলাফেরা বন্ধ। স্ত্রীকে নিজেই দেখাশোনা করেন বাবু। কিন্তু জ্যোতির চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্যও নেই তাঁর। তবে থেমে থাকেননি। স্ত্রীকে কী ভাবে সুস্থ করে তোলা যায়, তার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, এই রোগের চিকিৎসা সেখানে ঠিকমতো হবে না। তার জন্য বাবুকে কটক এমসিবি মেডিক্যাল কলেজে জ্যোতির চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু সে তো অনেক দূর! কী ভাবে নিয়ে যাবেন জ্যোতিকে? অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করার মতো টাকাও ছিল না বাবুর কাছে।
বিকল্প উপায় বলতে তাঁর একমাত্র সম্বল ভ্যান। সেই ভ্যানে স্ত্রীকে বসিয়েই জ্যোতি রওনা দেন কটকের উদ্দেশে। ৩০০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে পৌঁছোন কটকে। বাবু জানিয়েছেন, এই সফর খুব একটা সহজ ছিল না তাঁর কাছে। কখনও হাইওয়ে ধরে, কখনও গ্রামের কাঁচা রাস্তা ধরে, রাতের ঠান্ডা উপেক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। রাস্তায় অনেকেই তাঁকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবু। কেউ খাবার দিয়েছেন, কেউ জল, কেউ কেউ আবার আর্থিক সহায়তাও করেছেন। কটক এমসিবি মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছে জ্যোতিকে ভর্তি করান বাবু। সেখানে তাঁর চিকিৎসাও হয় ভাল ভাবে। বাবু জানিয়েছেন, এখন স্ত্রীকে নিয়ে আবার সম্বলপুরে ফিরে যেতে চান। আর একটু সুস্থ হলেই জ্যোতিকে নিয়ে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন বাবু।