ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
স্ত্রীর থেকে বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজস্থানের এক বৃদ্ধ। ৫৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইতি টানতে হাই কোর্টে আবেদন জানান। কিন্তু আদালত বৃদ্ধের যুক্তিকে খণ্ডন করে বিচ্ছেদের বিষয়টি খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ছোট ছোট বিষয়ে কথা কাটাকাটি, তা থেকে মতবিরোধ তৈরি হতেই পারে। কিন্তু এটিকে অত্যাচার হিসাবে বিবেচনা করা যায় না। আর তার পরই বৃদ্ধের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। ভরতপুরের পরিবার আদালতের রায়কেই বহাল রাখে হাই কোর্ট।
ভরতপুরের পরিবার আদালতে বিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন বৃদ্ধ। কিন্তু পরিবার আদালত জানিয়ে দেয়, দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো অশান্তি হতেই পারে। আর সেই যুক্তিতে বিচ্ছেদে সম্মতি দিলে তা শুধু স্ত্রীকেই আঘাত করবে না, গোটা পরিবারেও এর প্রভাব পড়বে। সম্মানহানি হবে। তার পরই বিচ্ছেদের বিষয়টি খারিজ করে দেয় আদালত। কিন্তু পরিবার আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বৃদ্ধ। সেখানেও ধাক্কা খান তিনি। একই যুক্তিতে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।
জানা গিয়েছে, ১৯৬৭ সালের ২৯ জুন বিয়ে হয় দম্পতির। বৃদ্ধের দাবি, ২০১৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে পণের জন্য অত্যাচারের অভিযোগ তুলে এফআইআর করেন স্ত্রী। তার পর থেকে তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বৃদ্ধের আরও দাবি, স্থাবর সম্পত্তি বড় পুত্রের নামে লেখানোর জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করছেন স্ত্রী। কিন্তু তিনি চান, দুই পুত্রের মধ্যেই সম্পত্তি সমান ভাবে ভাগ করে দিতে। তাঁকে দেখাশোনা করেন না স্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কও রয়েছে বলে দাবি বৃদ্ধের। বৃদ্ধের স্ত্রীর পাল্টা দাবি, তাঁর স্বামী সন্তানদের সম্পত্তি না দিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে তা ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এই ঘটনায় জড়িত রয়েছেন তাঁর দেওরও। মহিলাও পাল্টা দাবি করেন, তাঁর স্বামীরও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। তার পরই মাসখানেক আগে আগে বিচ্ছেদ চেয়ে পরিবার আদালতে মামলা করেন বৃদ্ধ।