(বাঁ দিকে) মৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতা। (ডান দিকে) ধৃত ইমারত ব্যবসায়ী। ছবি: সংগৃহীত।
উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার এক ইমারত ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল রাজ্যে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ধৃতের নাম অভয় কুমার। আরও এক ব্যবসায়ী মণীশ কুমারের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় নয়ডা অথরিটির সিইও লোকেশ এমকে কম্পালসরি ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ় করা হয়েছে। এ ছাড়াও ওই এলাকায় ট্র্যাফিকের দায়িত্বে যে সব কর্মীরা ছিলেন, তাঁদেরও এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মধ্যরাতে রাস্তার পাশে থাকা ৫০ ফুট গভীর জলাশয়ে গাড়ি নিয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতার। সেই ঘটনার তোলপাড় গোটা নয়ডা। যুবকের মৃত্যুতে দায় কার, তা নিয়ে যখন ঠেলাঠেলি চলছে, সেই সময় নয়ডা পুলিশ ঘোষণা করল এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে জলাশয়ে পড়ে যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে, নির্মণকাজের জন্য সেখানে বিশালাকার গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। সেই গর্তের গভীরত ৫০ ফুট। সেখানে বৃষ্টির জল জমে জলাশয়ে পরিণত হয়েছিল। সেই জলাশয়ের পাশ দিয়েই রাস্তা গিয়েছে। ঘটনাচক্রে, যেখানে দুর্ঘটনারটি ঘটেছে, সেই জায়গায় রাস্তাটি ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য ওই বাঁকের মুখে কোনও গার্ডরেল বা সতর্কবার্তা ছিল না। তার মধ্যে কুয়াশার কারণে বাঁকটাও ঠিকমতো ঠাওর করা যায়নি সে দিন। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি জলাশয়ের মধ্যে পড়ে। যুবরাজই একা নন, এই বাঁকের কাছে আরও এক ট্রাকচালক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। তাঁর ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা দেওয়ালে ধাক্কা মেরে জলাশয়ের উপর ঝুলতে থাকে। ট্রাকচালকের কথায়, ‘‘আমি কোনও রকমে লাফ দিয়ে নামি। গলাসমান জলের মধ্যে গিয়ে পড়ি।’’