জ্ঞানেশ কুমার। —ফাইল চিত্র।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফের ইমপিচমেন্ট নোটিশ জমা পড়ল। এ বার রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত নোটিস জমা পড়েছে। নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন বিভিন্ন দলের ৭৩ জন সাংসদ।
রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে ৭৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। ওই নোটিসে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ভাবে ৯টি অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রমেশ। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে রমেশ লিখেছেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ৯টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সবিস্তার প্রমাণ রয়েছে। তাই এগুলো অস্বীকার করা যাবে না। বা দায় এড়়িয়ে চলে যাওয়া যাবে না।” জ্ঞানেশ পদে থাকলে সংবিধানের উপর আঘাত নামবে বলেও দাবি করেছেন রমেশ।
গত ১২ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল সংসদের দুই কক্ষে। কিন্তু সেই নোটিসটি গ্রহণ করা হয়েছে না কি তা বিবেচনাধীন রয়েছে, তা নিয়ে তিন সপ্তাহ কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষিত না হওয়ার প্রশ্ন উঠেছিল। জ্ঞানেশকে সরানোর প্রস্তাব সংক্রান্ত ইমপিচমেন্ট নোটিস চলতি মাসেই খারিজ করে দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ। ওই নোটিসে স্বাক্ষর করেছিলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ বিরোধী দলগুলির সাংসদেরা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪২ জন। ফলে এর আগে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নোটিস জমা দিতে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলির (মূলত, বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিকদের) কাছে তৃণমূল সমর্থন চেয়েছিল। তাতে সাড়াও মিলেছিল। জ্ঞানেশকে অপসারণের প্রস্তাব সংক্রান্ত নোটিসে ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ (লোকসভার ১৩০, রাজ্যসভার ৬০) সই করেছিলেন। কিন্তু কোনও কক্ষেই তা বিতর্কের জন্য গৃহীত হয়নি। তার পরেই দ্বিতীয় বার এই নোটিস জমা দেওয়ার তোড়জোর শুরু হয়।
লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিল বিরোধীদের ‘বাধায়’ লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্রের শাসকজোট এনডিএ। তার পর থেকে আরও উজ্জীবিত বিরোধী শিবির। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ফের ইমপিচমেন্ট নোটিস জমা দেওয়া হল রাজ্যসভায়।
জ্ঞানেশকে অপসারণের দাবিতে বিরোধী সাংসদেরা প্রথমে যে নোটিস দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে নানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম, তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। ছিল, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ। তা ছাড়া গত বছর নিয়োগ প্যানেলের বৈঠকে জ্ঞানেশের নামে আপত্তি জানিয়ে রাহুল যে ‘ডিসেন্ট নোট’ দিয়েছিলেন, তারও উল্লেখ ছিল নোটিসে। আনা হয়েছিল, ভোটে কারচুপিতে মদত দেওয়ার অভিযোগও। সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল।