লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। —ফাইল চিত্র।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে নোটিস দিল বিরোধীরা। মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভার সচিবালয়ে এই নোটিস জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। জানা যাচ্ছে, ওই নোটিস লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংহকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য ওই নোটিসে বিরোধী শিবিরের ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। তাতে কংগ্রেসের পাশাপাশি ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদেরাও স্বাক্ষর করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদেরা ওই অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেনি বলেই জানাচ্ছে পিটিআই।
তৃণমূল কংগ্রেস যে এই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে স্বাক্ষর করবে না, সেই আভাস আগেই মিলেছিল। মঙ্গলবার দুুপুরেই লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, কংগ্রেস যে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায় তাতে তৃণমূলের সাংসদদের সই করতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলির যৌথ বিবৃতি দাবি করেছেন অভিষেক। জানিয়ে দেন, সে প্রক্রিয়া মানলে তবেই তৃণমূল তাতে সই করবে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে রাহুল-সহ বিরোধী দলের বিভিন্ন সাংসদকে বক্তৃতা করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আট জন সাংসদকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। এই দুই ঘটনার প্রতিবাদেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চাইছে বিরোধী শিবির।
লোকসভার সচিবালয়ের এক সূত্র পিটিআই-কে জানাচ্ছে, নোটিসটি যাচাই করে নিয়ম অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। পিটিআই আরও জানাচ্ছে, অতীতেও লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও বারই তা সফল হয়নি।
বিরোধী শিবিরের এই নোটিস প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “যাদের বিবেক অপসারিত হয়েছে, তারাই দেশের সাংবিধানিক পদকে অপসারিত করতে চাইছে। এটি কেমন ধরনের চিন্তাভাবনা? আমার মনে হয় গোটা দেশের এ বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসকে রাজনীতি থেকেই অপসারিত করে দেওয়া উচিত।”
সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদের আওতায় লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে। তবে এর জন্য লোকসভার সাংসদদের ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিতে স্পিকারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হওয়া প্রয়োজন। তার আগে ওই প্রস্তাবের জন্য একটি লিখিত নোটিস জমা দিতে হবে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবের অন্তত ১৪ দিন আগে ওই নোটিস দিতে হয়। পিটিআই জানাচ্ছে, এই নোটিসে লোকসভার অন্তত দু’জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকতে হয়। তবে সর্বোচ্চ কত জনের স্বাক্ষর থাকতে পারে, তার কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই।
নোটিসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে সেটি গৃহীত হলে আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত হয়। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর থেকে বিবেচনাধীন থাকা পর্যন্ত সময়ে নিম্নকক্ষের কার্যক্রম সাধারণত স্পিকার পরিচালনা করেন না। তাঁর পরিবর্তে ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন। ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত কোনও সাংসদ নিম্নকক্ষ পরিচালনা করেন।