Pahalgam Terror Attack Chargesheet

পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড: মূলচক্রীর নাম উল্লেখ এনআইএ চার্জশিটে, হামলার দিনেও পাকিস্তান থেকে এসেছিল ‘রিয়্যাল টাইম’ নির্দেশ!

নিহত জঙ্গিদের থেকে পাওয়া মোবাইলগুলির মধ্যে অন্তত দু’টি কেনা হয়েছিল পাকিস্তানে। একটি অনলাইনে কিনে পাঠানো হয়েছিল লাহৌরের এক ঠিকানায়। অন্যটি কেনা হয়েছিল করাচির কোনও এলাকা থেকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১০:৫৬
Share:

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকা। গত বছরের এপ্রিলে এখানে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। —ফাইল চিত্র।

পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল পাকিস্তান থেকে। জঙ্গিরা যে পাকিস্তান থেকে এসেছিল, তা আগেই জানা গিয়েছিল। এ বার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) জানাল, পুরো জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল পাকিস্তানে বসে। শুধু তা-ই নয়, গোটা হামলা পাকিস্তান থেকেই ‘রিয়্যাল টাইম’-এ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটে এমনটাই উল্লেখ করেছে এনআইএ। চার্জশিটে উঠে এসেছে হামলার সেই ‘মূলচক্রীর’ নামও।

Advertisement

২০২৫-এর এপ্রিলের ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আগেই উঠে এসেছিল পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’-র নাম। তিনি পাক জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বা এবং তার ছায়া সংগঠন দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর অন্যতম নেতা বলে সন্দেহ। এনআইএ-র চার্জশিটে এই সইফুল্লাকেই হামলার ‘মূল অভিযুক্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, তিনি লাহৌর থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা করেন। এবং সেখান থেকেই পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছিলেন তিনি। চার্জশিটে এনআইএ জানিয়েছে, এই সইফুল্লা ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছেন। সূত্রের খবর, তিনি এখনও পাকিস্তানের কোথাও গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন।

পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই হামলার দায়স্বীকার করেছিল টিআরএফ। ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে হামলার দায়স্বীকার করেছিল তারা। কিন্তু পরে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে লশকরের ওই ছায়া সংগঠন। টিআরএফ পরে দাবি করে, পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ ছিল না। ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি হ্যাক করা হয়েছিল বলে দাবি করে তারা। উল্লেখ্য, এনআইএ-র তদন্তে উঠে এসেছে, ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাট্টাগ্রাম এলাকায় বসে তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি আরও একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেটি চালানো হত রাওয়ালপিন্ডি থেকে।

Advertisement

ওই জঙ্গি হামলার পরে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিদের খোঁজে ‘অপারেশন মহাদেব’ শুরু করেছিল ভারতীয় সেনা। ওই অভিযানে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে যে মোবাইলগুলি পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলিরও অন্তত দু’টি পাকিস্তানের কোনও একটি জায়গা থেকে কেনা হয়েছিল। তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে এনআইএ। চার্জশিট অনুযায়ী, ওই দু’টি মোবাইলের মধ্যে একটি কেনা হয়েছিল অনলাইনে। তার পরে সেটি পাঠানো হয়েছিল লাহৌরের ‘কায়েদ-ই-আজ়ম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট’-এর একটি ঠিকানায়। অন্য মোবাইলটি কেনা হয়েছিল করাচির কোনও এক এলাকা থেকে।

গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। চার্জশিটে এনআইএ জানিয়েছে, তার আগে গত বছরের ১৫-১৬ এপ্রিল এলাকা রেকি করেছিলেন তিন জঙ্গি— ফয়জ়ল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজ়া আফগানি। পাকিস্তানে বসে থাকা সইফুল্লাই তাঁদের ওই এলাকা রেকি করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। পরে যে দিন হামলা হয়, সেই দিনও হামলাকারী জঙ্গিদের সঙ্গে লাহৌর থেকে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রেখেছিলেন সইফুল্লা। এনআইএ জানিয়েছে, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিদের সঙ্গে সইফুল্লার ‘রিয়্যাল টাইম’ যোগাযোগ হয়েছিল হামলার দিনে। এনআইএ-র সন্দেহ, কোথায় জঙ্গিদের গোপন আস্তানা হবে, তাঁরা কী কী করবেন, হামলার পরে কী ভাবে পালাবেন, সেই সব নির্দেশই পাকিস্তান থেকে সরাসরি পাঠিয়েছিলেন ওই জঙ্গিনেতা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement