আলোর কারণেই রাত জাগতে হচ্ছে না তো? ছবি: সংগৃহীত।
ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি মোদের বাড়ি এসো / খাট নাই পালং নাই চোখ পেতে বসো / বাটাভরা পান দেব গাল পুরে খাও / খোকার চোখে ঘুম নাই ঘুম দিয়ে যাও।।
সত্যি ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি আছে কি না জানা নেই, কিন্তু ‘খোকার চোখে ঘুম নেই’ এই সমস্যা এখন আর খোকার মধ্যে আটকে নেই। আট থেকে আশি, বয়স নির্বিশেষে এই সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। কর্মব্যস্ত জীবন উদ্বেগে পরিপূর্ণ। সারা দিনের ক্লান্তির পর অনেকেই ভাল করে ঘুমোতে পারেন না। কেউ কেউ তার জন্য নিয়মিত ঘুমের ওষুধও খান। অনেকেই অনিদ্রাজনিত সমস্যার জন্য রাত জেগে মোবাইল ফোন দেখাকে দায়ী করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ঘরের আলোও কিন্তু ঘুম না আসার অন্যতম কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, আলোর দোষেই অনেক সময় অনিদ্রার সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন মানুষ। চিকিৎসক কল্লোল দে বলেন, ‘‘পিটুইটারি গ্রন্থিতে রয়েছে সুপ্রা কায়েজ়মেটিক নিউক্লিয়াস। এই জায়গাতেই রয়েছে মস্তিষ্কের লাইট-ডার্কনেস সুইচ। চোখের রেটিনায় মেলানোপসিনে ভরা স্নায়ুকোষগুচ্ছ থাকে, যা আলোর অনুভূতিকে মস্তিষ্কে পৌঁছোতে সাহায্য করে। মেলাটোনিন ঘুমের হরমোন। চারপাশে দিনের আলো থাকলে শরীর এই হরমোন উৎপাদন বন্ধ রাখে। ঘুমোনোর সময় ঘরে বেশি করে আলো জ্বালিয়ে রাখলে সেই আলোর রশ্মি মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এর পাশাপাশি মোবাইল ব্যবহার করলে মোবাইলের উত্তেজক নীল আলো্র প্রভাবে মস্তিষ্ক ভাবে, তখনও দিন। মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন আরও কমে যায়। তাই ঘুমোনোর সময় আলোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’’
ঘুম আনার জন্য চিকিৎসকের ৩ পরামর্শ
১) ঘুমের সময় এককেবারেই চড়া আলো জ্বালিয়ে রাখবেন না, হালকা বাতি ব্যবহার করুন।
২) ঘুমের দু’ঘণ্টা আগে ঘরের আলো ধীরে ধীরে কমিয়ে দিন।
৩) মোবাইলটি নাইট মোডে রেখে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন।