(বাঁ দিকে) অঙ্গকৃষ রঘুবংশী, (ডান দিকে) তেজস্বী দাহিয়া। —ফাইল চিত্র
বুধবার ইডেনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচে বিতর্ক। কেকেআরের ক্রিকেটার বদল করা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর জায়গায় কনকাশন সাব (মাথায় চোট লাগার জন্য পরিবর্ত ক্রিকেটার নামানো) হিসাবে নামানো হয় তেজস্বী সিংহ দাহিয়াকে। কিন্তু যেখানে মনে হয়েছে অঙ্গকৃষের চোট শুধু আঙুলে, সেখানে কেকেআর কী করে মাথায় চোট লাগার কারণ দেখিয়ে তাঁকে তুলে নিতে পারল?
বিভ্রান্তির সূত্রপাত মুম্বইয়ের ইনিংসের মাঝপথে। ১১তম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে ক্যাচ নিতে গিয়ে অঙ্গকৃষ চোট পান। এর পর উইকেটকিপিং চালিয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত ১৪তম ওভারে মাঠের বাইরে চলে যান অঙ্গকৃষ। বাকি ইনিংসে উইকেটকিপিং করেন তেজস্বী।
ইনিংসের বিরতিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কেকেআর-এর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলো থেকে ঘোষণা করা হয় যে, অঙ্গকৃষের কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসেবে রমনদীপ সিংহ নেমেছেন। এতে বিতর্ক বাড়ে। কারণ, আবারও প্রশ্ন ওঠে, অঙ্গকৃষের মাথায় বা ঘাড়ে কোনও আঘাত লেগেছে বলে মনে হয়নি, চোট শুধু আঙুলেই। তা হলে পরিবর্ত কেন?
এরপর নাটকে আরও একটি মোড় আসে। রান তাড়া করতে নেমে কেকেআরের যখন ২৮ বলে ২৪ রান দরকার, তখন রোভম্যান পাওয়েল আউট হন। কিন্তু দেখা যায়, রমনদীপের বদলে ব্যাট করতে নেমেছেন তেজস্বী। তা হলে অঙ্গকৃষের জায়গায় আসলে কে কনকাশন সাব হিসেবে খেলছেন, তা নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি শুরু হয়। এর পর কেকেআর রমনদীপকে কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসাবে উল্লেখ করা সেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি মুছে দেয়। তাতেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেটার মাথা বা ঘাড়ে আঘাত পেলে এবং তার জন্য কনকাশনে ভুগলে তবেই দলগুলো কনকাশন সাবস্টিটিউট ব্যবহার করার অনুমতি পায়। তা ছাড়া এর জন্য ম্যাচ রেফারির অনুমোদন প্রয়োজন এবং এটি অবশ্যই একজন ‘লাইক-ফর-লাইক’ (একই ধরনের ক্রিকেটারের পরিবর্তে একই ধরনের ক্রিকেটার) পরিবর্তন হতে হবে, যাতে দলগুলো কোনো অন্যায্য সুবিধা না পায়। মাঠ ছাড়ার পর অঙ্গকৃষের মধ্যে কনকাশনের কোনও উপসর্গ দেখা দিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও কেকেআর-এর পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনা হল, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সও চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে একই ধরনের কনকাশন সাবস্টিটিউট বিতর্কের মুখে পড়েছিল। সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার মিচেল স্যান্টনার একটি ডাইভিং ক্যাচ নেওয়ার সময় চোট পাওয়ার পর শার্দুল ঠাকুরকে তাঁর জায়গায় নামানো হয়েছিল। এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মুম্বই অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল, স্যান্টনারের ঘাড়েও আঘাত লেগেছিল এবং তাঁর মাথা ঘুরছিল। কেকেআর এখনও পর্যন্ত কোনও কিছু স্পষ্ট করেনি।