ডানকুনির তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে। —ফাইল চিত্র।
হুগলি জেলার ডানকুনি পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলরের নাম সূর্য দে। ২০২৫ সালের ২৮ মে এক ব্যক্তিকে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ‘আক্রান্ত’ ব্যক্তি সৌমিক পাঁজার অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে সূর্যকে গ্রেফতার করে ডানকুনি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার তৃণমূল কাউন্সিলরকে শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হবে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানাবে পুলিশ। ওই সূত্র মারফত এ-ও জানা গিয়েছে যে, ‘আক্রান্ত ব্যক্তি’ সেই সময় থানায় অভিযোগ জানাতে ভয় পেয়েছিলেন। মারধরের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বেশ কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাঁকে। সরকার বদলের পর তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানান ওই ব্যক্তি।
অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর ভোটের আগেও একাধিক বার সংবাদ শিরোনামে এসেছি়লেন। এসআইআর পর্বে খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে নির্বাচন কমিশন মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে নাম ছিল সূর্যের। তালিকায় নিজেকে ‘মৃত’ দেখার পর সদলবলে শ্মশানে চলে যান ওই কাউন্সিলর। কমিশনের আধিকারিকদের কাছে তিনি দাহকার্য সম্পন্ন করার আর্জি জানান। এসআইআর-এ ‘মৃত’, অথচ জীবিত, এমন বেশ কয়েক জনকে নিয়ে কমিশনের সদর দফতর দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দলে ছিলেন সূর্যও।
এই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল শুরু হতেই জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন। পরে অবশ্য ভোটার তালিকায় সূর্যের নাম ওঠে। বুধবার রাতে সূর্যের গ্রেফতারির পর বৃহস্পতিবার ডানকুনি থানায় যান তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী। কী কারণে তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হল, পুলিশের কাছে তা জানতে চান তাঁরা। এই প্রসঙ্গে ডানকুনি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সূর্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”