পাকিস্তানের মুরিদকেতে জঙ্গিদের শেষকৃত্যে পাক আধিকারিকেরা। ছবি: এক্স।
কফিনে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা জড়িয়েই শেষ বিদায় জানানো হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত জঙ্গিদের। শুধু তা-ই নয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাদের শেষকৃত্য হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানি সেনাও ছিল। যার নেতৃত্বে ওই শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছিল, সেই হাফিজ় আব্দুর রউফকে অবশ্য জঙ্গি বলে মানতেই নারাজ পাকিস্তান। বিতর্কের আবহে পাক সেনার মুখপাত্র প্রকাশ্যে তার সম্পর্কে বললেন, ‘‘উনি নিরীহ, ভীষণই পারিবারিক!’’
ভারতের দাবি, হাফিজ় জঙ্গি সংগঠন লশকর-এ-ত্যায়বার সঙ্গে যুক্ত। আমেরিকাও তাকে জঙ্গি তকমা দিয়েছে। তাকেই প্রকাশ্যে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের ‘ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন’-এর মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধরি ‘জ্ঞানী এবং ধর্মপ্রচারক’ বলে সম্বোধন করেছেন। তার পরিচয়পত্রও প্রকাশ্যে এনে পাক সেনার দাবি, ওই জঙ্গি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের হামলায় একাধিক পাকিস্তানি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। অভিযোগ, ঘটা করে সেই সব ‘জঙ্গি’র শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে হাজির ছিলেন পাক সেনা এবং পুলিশের শীর্ষকর্তারা। রবিবার এই আধিকারিকদের নাম এবং পরিচয় প্রকাশ করেছে ভারত। তাতে পুলিশের আইজি থেকে শুরু করে সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল, অনেকের নামই রয়েছে।
ভারত যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে লশকর-এ-ত্যায়বা জঙ্গি হাফিজ় আব্দুর রাউফকে। জঙ্গিদের দেহ পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা দিয়ে মুড়ে তাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ছবিতে লশকর জঙ্গি আব্দুলকেই ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে। তার পিছনে পাক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের চিহ্নিত করে ছবি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সেনা।
আমেরিকার ট্রেজ়ারি দফতরও জানাচ্ছে, রউফ লশকর-এ-ত্যায়বার বিভিন্ন পদে কাজ করেছে। তার মধ্যে রয়েছে ডিরেক্টর অফ পাবলিক সার্ভিস, ডিরেক্টর অফ ইউম্যানিটারিয়ান রিলিফ। লশকরের ‘ফালাহ-এ-ইনসানিয়ত’-এর শীর্ষপদেও ছিল রউফ। পরে সেই শাখাকে কালো তালিকাভুক্তও করেছিল আমেরিকা।
২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী লশকর-এ-ত্যায়বার হাফিজ় সইদও জঙ্গিদের এই শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। হাফিজ়ই পাকিস্তানে জামাত-উদ-দাওয়া নামের আর একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তৈরি করে। ভারতের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত সেই সংগঠনের তিন জঙ্গি। তাদেরই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল মুরিদকেতে। নিহতেরা হল কারি আব্দুল মালিক, খালিদ এবং মুদাস্সির।