ভারতীয় সেনা সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে পাকিস্তান। প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর থেকে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে টানাপড়েন অব্যাহত। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক— সব দিকে থেকেই পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। পাল্টা পাকিস্তানও একের পর এক কৌশল অবলম্বন করছে। ভারত সরকার যখন পহেলগাঁও হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই ভারতীয় সেনা সম্পর্কে নানা ধরনের ভুল তথ্য ছড়াতে শুরু করেছে পাকিস্তান। ‘দ্য লল্লনটপ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে দেশের সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমগুলিতে ভারতীয় সেনার শীর্ষকর্তাদের নিয়ে নানা রকম মন্তব্য এবং মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনা সম্পর্কে এই ধরনের ভুল তথ্য সম্প্রচারের নেপথ্যে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)-র অধিকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিএস রানা সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে পাকিস্তানে। সেখানকার সংবাদমাধ্যমগুলিতে সম্প্রচার করা হচ্ছে যে, লেফটেন্যান্ট রানাকে পহেলগাঁও কাণ্ডের পর নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তাঁকে আন্দামান-নিকোবরের সেলুলার জেলে বন্দি করা হয়েছে। ‘প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো’ (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক-এর তরফে পাকিস্তানের একটি চ্যানেলে ডিএস রানাকে নিয়ে সম্প্রচারিত খবরের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছে তাদের এক্স হ্যান্ডলে। সেখানে সংবাদ সঞ্চালিকাকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, লেফটেন্যান্ট ডিএস রানাকে নিলম্বিত করা হয়েছে। তাঁকে আন্দামানে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানাকে ‘কমান্ডার ইন চিফ’ পদে উন্নীত করা হয়েছে। ১ জুন থেকে আন্দামান-নিকোবরের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি।
শুধু ডিএস রানাই নন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুচীন্দ্র কুমারকে নিয়েও ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে পাকিস্তান। পাক সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, সুচীন্দ্র কুমারকে নর্দান কমান্ড-এর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও দাবি করা হচ্ছে যে, সুচীন্দ্র কুমার পাকিস্তানের বিরোধিতা না করায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত সরকার। কিন্তু সত্য ঘটনা এটাই যে, জেনারেল কুমার ৩০ এপ্রিল অবসর নেন। তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানোর খবর ভুল।
এই তালিকায় রয়েছেন এয়ার মার্শাল এসপি ধারকর। পাকিস্তানে তাঁকে নিয়েও চর্চা চলছে সংবাদমাধ্যমগুলিতে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, এয়ার মার্শাল ধারকরকে বহিষ্কার করা হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে অস্বীকার করায়। ঘটনাচক্রে, এই খবরটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। ৩০ এপ্রিল তিনিও অবসর নেন। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন নর্মদেশ্বর তিওয়ারি।