(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যে ছাড় দিচ্ছে আমেরিকা, সেই একই ছাড় পাবে ভারতও। দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চূড়ান্ত বাণিজ্য-বোঝাপড়া হয়ে গেলেই ওই সুবিধা পাবে ভারতীয় বস্ত্র শিল্প। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানাল নয়াদিল্লি।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ল বলেন, “বাংলাদেশ যা পেয়েছে, বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা ভারতও পাবে।” ভারতীয় বস্ত্র রফতানিকারকদের উদ্বেগের মাঝে দিল্লির এই আশ্বাস তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
সম্প্রতি ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-বোঝাপড়া হয়েছে। তাতে ভারতের উপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তার পর পরই বাংলাদেশের সঙ্গেও বাণিজ্যিক বোঝাপড়া সেরেছে আমেরিকা। সেখানে বাংলাদেশের উপর মার্কিন শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি বস্ত্রকেও শর্তসাপেক্ষে অনেক কম শুল্কে আমেরিকার বাজারে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যিক বোঝাপড়া অনুযায়ী, আমেরিকার সুতো দিয়ে বাংলাদেশ পোশাক তৈরি করলে, সেই বস্ত্র মার্কিন বাজারে রফতানির জন্য ১৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে না। পিটিআই জানাচ্ছে, বর্তমানে বাংলাদেশি বস্ত্র আমেরিকার বাজারে রফতানির জন্য ৩১ শতাংশ শুল্ক (আগে থেকেই নির্ধারিত ১২ শতাংশ এবং নতুন ঘোষিত ১৯ শতাংশ) দিতে হয়। তবে আমেরিকার সুতো দিয়ে বস্ত্র তৈরি করলে মাত্র ১২ শতাংশ শুল্কেই তা মার্কিন বাজারে রফতানি করতে পারবে বাংলাদেশ।
তবে দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের এখনও চূড়ান্ত বাণিজ্য-বোঝাপড়া হয়নি। সম্প্রতি যা হয়েছে, তা অন্তর্বর্তী সমঝোতা। এ অবস্থায় দিল্লি জানাল, বাণিজ্যিক বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়ে গেলে ভারতও একই রকম সুবিধা পাবে। গোয়ল জানান, যদি কোনও ভারতীয় সংস্থা আমেরিকা থেকে সুতো কিনে পোশাক তৈরি করে, সেই পোশাকও বিনা শুল্কে আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। তিনি বলেন, “এটি আমাদের চুক্তিতেও থাকবে।”
তবে এর জন্য দেশীয় সুতো চাষিদের কোনও সমস্যা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন গোয়ল। মন্ত্রী জানান, আমেরিকায় সীমিত পরিমাণে সুতো তৈরি হয়। ওয়াশিংটন মাত্র ৫০ লক্ষ ডলারের সুতো রফতানি করে। যা ভারতের চাহিদার তুলনায় সামান্যই। ভারতীয় বস্ত্র শিল্পের জন্য ৫০০০ কোটি ডলারের সুতো প্রয়োজন বলে জানান গোয়ল।