প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
রোজগার মেলায় শনিবার ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র বিলি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের যুবসমাজকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি জানান, আগামী দিনে দুনিয়ার আর্থিক বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবেন তাঁরা। সম্প্রতি পাঁচ দেশের সফর করে এসেছেন তিনি। সে দেশগুলির সঙ্গে সমঝোতার জেরে ভারতের প্রযুক্তি, নিয়োগ, আর্থিক ক্ষেত্র কতটা লাভবান হবে, তা-ও ১৯তম রোজগার মেলায় জানিয়েছেন তিনি।
দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে হয় রোজগার মেলা। সারা দেশে এর আগে পর্যন্ত ১৮টি রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১২ লক্ষ নিয়োগপত্র বিলি করা হয়েছে। শনিবার হয়েছে ১৯তম মেলা। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে কী ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে অন্যতম ভূমিকা নিতে চলেছে তাঁর পাঁচ দেশের সফর।
মোদীর কথায়, ‘‘পাঁচ দেশের সফর করে এলাম। প্রায় এক ডজন দেশের বড় সংস্থার নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই বুঝেছি, বাকি দুনিয়া ভারতের যুবসমাজ, প্রযুক্তি নিয়ে উৎসাহিত। তারাও ভারতের বিকাশযাত্রার অংশীদার হতে চায়।’’ কোন দেশের সঙ্গে কী নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, তাতে ভারত কতটা লাভবান হবে, সে কথাও জানিয়েছেন মোদী। তিনি জানান, নেদারল্যান্ডের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, জল, কৃষি, আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইডেনের সঙ্গে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নিয়ে কথা হয়েছে। ডিজিটাল ইনোভেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নরওয়ের সঙ্গে সবুজ প্রযুক্তি, মেরিটাইম কোঅপারেশন (সামুদ্রিক সহযোগিতা) নিয়ে কথা হয়েছে। আরব আমিরশাহির সঙ্গে কৌশলগত শক্তি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। ইটালির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, খনিজ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে। সেই দেশের সঙ্গে অংশীদারি নিয়ে চুক্তিও হয়েছে। মোদীর কথায়, ‘‘এই সবের লাভ এ দেশের যুবসমাজ পাবে।’’
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, পৃথিবী জুড়ে যে আর্থিক বৃদ্ধি হচ্ছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে ভারতের যুবসমাজের। তাঁর কথায়, ‘‘গ্লোবাল গ্রোথে ভারতের যুবকদের বড় ভূমিকা থাকবে। ভারত জোগান শৃঙ্খলের ভরসাযোগ্য অংশীদার হচ্ছে।’’ কেন তিনি এ কথা বলছেন, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘‘একটা উদাহরণ দিই। নেদারল্যান্ডের সেমিকন্ডাক্টর সংস্থা এএসএমএলের সঙ্গে টাটার চুক্তি রয়েছে। দুনিয়ার খুব কম দেশের সঙ্গে ওরা চুক্তি করেছে। তার মধ্যে ভারত অন্যতম।’’ মোদী জানান, এর ফলে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। সুইডেনের সঙ্গে প্রযুক্তি, এআই নিয়ে সমঝোতা, আরব আমিরশাহির সঙ্গে কৌশলগত শক্তি নিয়ে সমঝোতা দেশের প্রযুক্তিকে মজবুত করবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, নতুন অংশীদারির পরে বাকি দুনিয়ার সঙ্গে এ দেশের যুবসমাজের যোগ বাড়বে। দুনিয়া সেই সব দেশকে সম্মান করে, যারা উদ্ভাবন করে, নির্মাণ করে এবং বড় স্তরে কাজ সরবরাহ করে। মোদী জানান, ভারত তিনটি বিষয়েই এগিয়ে চলেছে। জাহাজ নির্মাণ, মেরামতিতে বড় বিনিয়োগের কথাও তুলে ধরেছেন মোদী। তিনি জানান, এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে।
আর এর লাভ শুধু বড় শহরের নয়, ছোট শহরের যুবসমাজও পাবে। শনিবার সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘শহর গ্রামের ফারাক মিটছে। তাতে আর্থিক সুবিধা হচ্ছে। রোজগার বাড়ছে। দেশ আত্মমর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। শুধু বড় শহর এ সবের সুবিধা পাচ্ছে না। ছোট শহরের যুবরাও পাচ্ছেন।’’ তিনি জানান, দেশের মানুষ এখন দেশেই কাজ পাচ্ছেন। শহরে এখন কলের মিস্ত্রি মেলে না। কারণ, সকলে ‘জল জীবন অভিযান’-এর কাজ করেন।
শনিবার যাঁদের নিয়োগপত্র দিয়েছেন, তাঁদের সমাজের প্রতি দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘পরিবার বা শুধু নিজের কারণে আমরা সফল হই না। এই সাফল্যের নেপথ্যে নাগরিকদেরও ভূমিকা থাকে। তাই আমাদের দায়িত্ব নিজের এবং পরিবার ব্যতীত সমাজের প্রতিও থাকে।’’ আগামী দিনে বিকশিত ভারত রূপায়িত করতে এই যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন বলেও জানান মোদী।
রোজগার মেলায় মূলত ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, যাঁরা অষ্টম, দশম, দ্বাদশ শ্রেণি বা স্নাতক পাশ করেছেন, নয়তো আইটিআই বা সে রকম কোনও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মেলায় বিভিন্ন সংস্থা, এমনকি কেন্দ্রীয় সংস্থার স্টল থাকে। সেখানে গিয়ে নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে চাকরিপ্রার্থীদের।