ভোটের প্রার্থী নিয়ে চর্চা হাইলাকান্দিতে

বরাকের ভোট-ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে গোটা উপত্যকায়। কোনও দলই অবশ্য এখনও প্রার্থী-তালিকা ঘোষণা করেনি।

Advertisement

অমিত দাস

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৬ ০৪:৪৮
Share:

বরাকের ভোট-ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে গোটা উপত্যকায়। কোনও দলই অবশ্য এখনও প্রার্থী-তালিকা ঘোষণা করেনি।

Advertisement

অগপ-বিজেপি জোট হওয়ার জেরে এ বারের ভোটে বরাকে অসম গণ পরিষদ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। বরাকে এক মাত্র হাইলাকান্দির আলগাপুর ছাড়া অন্য কোথায় অগপ-র তেমন জনভিত্তি নেই। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের পর, জোটের হিসেবে আলগাপুরে লড়তে পারছে না অগপ। হাইলাকান্দির অন্য কোনও কেন্দ্রেও লড়ছে না অগপ। জেলা অগপর সাধারণ সম্পাদক কমরুল ইসলাম বড়ভুঁইঞা জানান, দু’দলের আঁতাঁতের পর বরাকের কোনও আসনই পাননি তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস, বিজেপি এবং এআইইউডিএফ প্রার্থীরাই নামতে চলেছেন বরাকের ভোট-যুদ্ধে। তিনটি দলের মধ্যে প্রার্থী-কেন্দ্রীক বিবাদ সব চেয়ে বেশি ছড়িয়েছে বদরউদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ-এ। সেই দলের প্রার্ত্থী তালিকা সরকারি ভাবে প্রকাশ না হলেও, এআইইউডিএফ হাইলাকান্দির তিনটি কেন্দ্রে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের পুরনো সদস্য তথা মন্ত্রী গৌতম রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা তিন নেতাকেই জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় টিকিট দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজমল। কাটলিছড়া কেন্দ্রে সুজামউদ্দিন লস্কর, আলগাপুরে নিজামউদ্দিন লস্কর ও হাইলাকান্দি কেন্দ্রে আনোয়ার হুসেন লস্কর। কিন্তু ওই কেন্দ্রগুলিতে লড়তে আগ্রহী এআইইউডিএফ-র অনেক নেতাই। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেস ছেড়ে আসা তিন নেতার নাম প্রকাশ্যে আসতেই আজমল শিবিরে তুমুল ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

Advertisement

হাইলাকান্দি কেন্দ্রে প্রাক্তন এআইইউডিএফ বিধায়ক সেলিমউদ্দিন বড়ভুঁইঞা ও কাটলিছড়া কেন্দ্রে বিবেক নাথের সমর্থকরা প্রার্থী বদলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। এআইইউডিএফ প্রার্থী নিয়ে দলের হাইলাকান্দি জেলা সভাপতি হিলালউদ্দিন বড়ভুঁইঞা সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে জেলা কমিটি।’’

অন্য দিকে, কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কাটলিছ়ড়ায় সপ্তম বার মন্ত্রী গৌতম রায়ই কংগ্রেসের প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত তাঁর সমর্থকরা। কিন্তু হাইলাকান্দি ও আলগাপুরের প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়নি। হাইলাকান্দি কেন্দ্রে প্রায় ছ’জন কংগ্রেসের টিকিট প্রত্যাশী রয়েছেন। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে বিধায়ক আব্দুল মুহিব মজুমদার। অভিযোগ, তিন বছর ধরে তিনি থাকেন গুয়াহাটিতে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। আলগাপুরের
কংগ্রেস প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। আলগাপুরের বিধায়ক গৌতম-পত্নী মন্দিরা রায়। মন্দিরাদেবীর বিরুদ্ধেও নিজের নির্বাচন চক্রে না আসার অভিযোগ রয়েছে।

কংগ্রেসের অন্দরমহলের খবর, আলগাপুরে মন্দিরাদেবীর বদলে তাঁর ছেলে রাহুল রায়কে প্রার্থী করতে পারে কংগ্রেস। বরাকে রটনা ছড়িয়েছে, রাহুলবাবু গোপনে বিজেপির সঙ্গেও সম্পর্ক রেখে চলেছেন। তাঁকে গেরুয়া শিবির প্রার্থী করার নিশ্চয়তা দিলে তিনি বিজেপিতেও যোগ দিতে পারেন। সেই পরিস্থিতিতে আলগাপুরে কংগ্রেস প্রার্থী কে হবেন, তার উত্তর খুঁজছে ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস অনুগামীরা। তবে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ রাহুলবাবু। তাঁর মন্তব্য, ‘‘খুব তাড়াতাড়িই সব স্পষ্ট হবে।’’

প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সতর্ক বিজেপিও। দলের প্রার্থী হতে চেয়ে জনাছয়েক নেতা আবেদন দাখিল করেছেন। কাটলিছড়া কেন্দ্রে বিজেপি কখনও জিততে পারেনি। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে তিন নম্বরে ঠেলে বিজেপি দ্বিতীয় স্থান দখল করেছিল। সে দিকে তাকিয়ে এ বারের ভোট নিয়ে গেরুয়া শিবিরের নেতারা কিছুটা আশাবাদী।

হাইলাকান্দি কেন্দ্র নিয়েও গেরুয়া শিবিরে জল্পনা চলছে। ওই কেন্দ্রে ১৯৯১ সালে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। এ বার ওই কেন্দ্র দখলের জন্য দলের নেতারা অনেক হিসেব কষছেন। এক পরিস্থিতি আলগাপুরেও। এখানে প্রার্থী কাকে করা হবে তা নিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা অন্ধকারে। গৌতম-পত্নী মন্দিরাদেবীর দখলে থাকা ওই কেন্দ্র দখলের জন্য গেরুয়া শিবির শক্তিশালী প্রার্থীর খোঁজ করছে। বিজেপি জেলা সভাপতি ক্ষিতীশরঞ্জন পাল জানিয়েছেন, ২-৩ দিনের মধ্যে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement