Mulayam Singh's Son Died

৩৮ বছর বয়সে মারা গেলেন মুলায়মের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক! অখিলেশ-ভ্রাতার অকালমৃত্যুর কারণ নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে প্রয়াত মুলায়ম সিংহ যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক যাদব। মঙ্গলবার রাতে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। তবে তাঁর অকালমৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৭:৫৭
Share:

(বাঁ দিকে) মুলায়ম সিংহ যাদব এবং তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক যাদব (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন মুলায়ম সিংহ যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক যাদব। বুধবার ভোরে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে তাঁর অকালমৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।

Advertisement

একটি সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রতীক। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁকে লখনউয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র নেতা তথা মুলায়মের জ্যেষ্ঠপুত্র অখিলেশ যাদব। প্রতীকের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

মঙ্গলবার রাতে প্রতীকের শারীরিক অবস্থার ফের অবনতি হয়। লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালের অধিকর্তা জিপি গুপ্ত জানিয়েছেন, ভোর ৫টা নাগাদ তাঁরা প্রতীকের অসুস্থতার খবর পান। তার পরেই চিকিৎসকদের একটা দল মুলায়ম-পুত্রের বাড়িতে যায়। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সঙ্কটজনক থাকায় তড়িঘড়ি প্রতীককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে ৫টা ৫৫ মিনিটে মারা যান প্রতীক।

Advertisement

ইতিমধ্যেই হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছেছেন যাদব পরিবারের সদস্যেরা। পুলিশি নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে সেখানে। বুধবারই প্রতীকের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতীক সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়মের দ্বিতীয় পত্নী সাধনা গুপ্তের পুত্র। সেই হিসাবে প্রতীক হলেন অখিলেশের বৈমাত্রেয় ভ্রাতা বা সৎভাই। পুরোদস্তুর রাজনৈতিক পরিবারে বড় হলেও রাজনীতিতে কোনও দিনই খুব বেশি সক্রিয় হননি। বরং ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছিলেন। ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর জমি-বাড়ির ব্যবসায় নামেন প্রতীক। লখনউয়ে একটি জিম চালু করেন। ২০১১ সালে অপর্ণা বিস্ত (অধুনা যাদব)-কে বিবাহ করেন প্রতীক।

প্রতীকের স্ত্রী অপর্ণা অবশ্য বরাবরই রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে লখনউ ক্যান্টনমেন্ট আসন থেকে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিজেপির রীতা বহুগুণা জোশীর কাছে হেরে যান। ২০২২ সালে সমাজবাদী পার্টি ছেড়ে অপর্ণা বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি উত্তরপ্রদেশের রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান।

সম্প্রতি স্ত্রী অপর্ণার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করতে চেয়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন প্রতীক। জানুয়ারি মাসে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে অখিলেশের ভাই লিখেছিলেন, “আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই স্বার্থপর মহিলাকে বিচ্ছেদ দিতে যাচ্ছি। সে আমার পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করে দিয়েছে। সে খুব বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী হতে চায়। আমার মানসিক স্বাস্থ্য খুবই খারাপ। কিন্তু সেই সব নিয়ে মাথা ঘামায় না সে। ও কেবল নিজের ছাড়া কিছুই বোঝে না। ওকে বিয়ে করা আমার কাছে দুর্ভাগ্যজনক।” তবে এই পোস্ট নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেন অপর্ণার ভাই। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রতীকের অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ করে ওই পোস্ট করা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement