Rahul Gandhi

কেরলে বাম আর বিজেপির আঁতাঁত, অভিযোগ রাহুলের

দিন কয়েক আগেই বাজেট অধিবেশনে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু আজ কেরলের আলেপ্পিতে ভোট প্রচারে নেমে সেই বামেদের বিরুদ্ধে আরএসএস-বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ তোলেন রাহুল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৭
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

সংসদে বিজেপির বিরুদ্ধে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কক্ষ সমন্বয় করলেও, কেরলে বামেদের সঙ্গে আরএসএস-বিজেপির আঁতাঁত রয়েছে বলে আজ প্রচারে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অন্য দিকে, ওই রাজ্যেই বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজ্যে মৌলবাদীদের তোষণের অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রীনরেন্দ্র মোদী।

দিন কয়েক আগেই বাজেট অধিবেশনে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু আজ কেরলের আলেপ্পিতে ভোট প্রচারে নেমে সেই বামেদের বিরুদ্ধে আরএসএস-বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘‘সকলেই দেখতে পাচ্ছেন বামদের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের তলে তলে আঁতাঁত রয়েছে। যে কারণে বাম শিবিরের আদর্শবাদী নেতারা হতাশ হয়ে দল ছেড়ে দিচ্ছেন।’’ বিজয়ন সরকার চালানোর পিছনে আরএসএস-বিজেপির অদৃশ্য হাত রয়েছ বলে সরব হন রাহুল। বলেন, ‘‘ওই অদৃশ্য হাত সাম্প্রদায়িক। যারা সংবিধান মানে না। মানুষে-মানুষে বিভাজন করে।’’ রাহুলের কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রী সব রাজ্যে গিয়ে মন্দির রাজনীতি করেন। আর এ রাজ্যে এসে শবরীমালার সোনা চুরির প্রশ্নে নীরব থাকেন। এর থেকেই স্পষ্ট দুই শিবিরের ঘনিষ্ঠতা।’’ রাজনীতিকদের মতে, বামেদের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরকে এক বন্ধনীতে এনে আক্রমণ শানানোর কৌশল নিয়েছেন রাহুল, যাতে বাম ও বিজেপি বিরোধী ভোট পুরোটাই পেতে সুবিধা হয় কংগ্রেসের।

সিপিএম সূত্রে বলা হয়েছে, রাহুলের ওই দাবি হাস্যকর বলে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছেন দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাট। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, ‘‘রাহুলের ওই বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অজ্ঞতাকেই তুলে ধরেছে। ..কংগ্রেসশাসিত হিমাচলপ্রদেশে যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন রয়েছে তা প্রত্যাহার করার সাহস কি রাহুলের রয়েছে? ঐতিহাসিক ভাবে সঙ্ঘ পরিবারের উত্থানের পিছনে দায়ী কংগ্রেস। যে বামেরা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে সরব, তাদের বিচার করার অধিকার কংগ্রেসের নেই।’’

অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী আজ কেরলের তিরুভাল্লায় প্রচারে গিয়ে বলেন, ‘‘বাম-কংগ্রেস ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে মৌলবাদী শক্তিকে সমর্থন করে চলেছেন। যার ফলে রাজ্যের হিন্দু-খ্রিস্টানকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।’’ কিছু বছর আগেরাজ্যের মুনামবামে খ্রিস্টানদেরপ্রায় ৬০০ পরিবারের প্রায় চারশো একর জমি ওয়াকফ সম্পত্তি বলে দাবি করে সে রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ড। বিজেপির দাবি, ওই দাবির সত্যতা নেই জেনেও নীরব থাকে বিজয়ন সরকার। বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিমকোর্টের বিচারাধীন।

আজ সেই প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, ‘‘মুনামবামের মতো ঘটনা রাজ্যের বহু জায়গায় ঘটে চলেছে। যার ফলে জমি-বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে হিন্দু-খ্রিস্টানদের। কিন্তু ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ওইসব মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে নীরব বাম-কংগ্রেস।’’ মোদী খুব ভাল করেই জানেন, রাজ্যের হিন্দু-খ্রিস্টান ভোট একত্রিত হলে বিজেপির ভাল ফল করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই খ্রিস্টান-হিন্দুদের পাশে বিজেপির থাকার বার্তা দিলেন মোদী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন