Gyanesh Kumar Impeachment

জ্ঞানেশের অপসারণ প্রসঙ্গে তৃণমূলের প্রস্তাবে শীতল রাহুল

তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতেও রাহুল গান্ধীর এই ‘অনিচ্ছা’ এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ বা ইমপিচমেন্ট নিয়ে তৃণমূলের উদ্যোগের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৯
Share:

রাহুল গান্ধী। —ফাইল চিত্র।

ঘটনাস্থল দিল্লির রাজাজি মার্গ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাসভবন। বৃহস্পতিবার। পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেস হাইকমান্ডের বৈঠক। রাজ্যের অধিকাংশ কংগ্রেস নেতা সিপিএম তথা বামেদের সঙ্গে জোট করতে চাইছেন না জানানোর পরে প্রশ্ন ওঠে, তা হলে কি কংগ্রেস একাই ভোটে লড়বে? না কি তৃণমূলের সঙ্গে জোটের কোনও সম্ভাবনা রয়েছে?

কংগ্রেস সূত্রের খবর, এই প্রসঙ্গ উঠতেই রাহুল গান্ধী সপাটে এআইসিসি-তে পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে জিজ্ঞাসা করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা কি আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন? দু’জনেই জানান, না। রাহুল সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন ছোড়েন, তা হলে কীসের জন্য অপেক্ষা করছেন?

তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতেও রাহুল গান্ধীর এই ‘অনিচ্ছা’ এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ বা ইমপিচমেন্ট নিয়ে তৃণমূলের উদ্যোগের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। কংগ্রেস সূত্র বলছে, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু রাহুল গান্ধী এখনও এ বিষয়ে ‘উৎসাহ’ প্রকাশ করেননি। তৃণমূলের প্রস্তাবে তাঁর মধ্যে কিছুটা ‘শীতলতা’ দেখা যাচ্ছে।

গত সোমবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাবের কথা বলার দিন থেকেই তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সাংসদ কংগ্রেস-সহ বাকি দলগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলেন। পরের দিন দুপুরে সংসদ চত্বরে রাহুলকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিরাবেগ কণ্ঠে জানান, বিষয়টি না বুঝে কিছু বলতে পারবেন না। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, রাহুল-ঘনিষ্ঠ কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল ঘরোয়া ভাবে তৃণমূলের সংসদীয় নেতাদের জানিয়েছেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই নিয়ে ইচ্ছুক না হলে দলের তরফে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে না। ডিএমকে, এসপি, আরজেডি মমতার প্রস্তাবে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস না থাকলে এগোনো সম্ভব নয় বুঝে আবার আগামী সপ্তাহের গোড়া থেকে তৃণমূল দৌত্য শুরু করবে।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল এবং কংগ্রেস উভয় দলই যখন একলা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন তারা সংসদে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে, এমনটা খুব সহজ নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দিল্লিতে বসেই মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কারও সঙ্গে জোট গড়বেন না। তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সনিয়া গান্ধীর মধ্যে কথা হত, কংগ্রেসকে কিছু আসন ছাড়লেও ছাড়তে পারতেন মমতা। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজি ছিলেন না। বরাবরই তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসকে দেওয়ার মতো কোনও আসন নেই। গত বিধানসভায় হারা আসনও নয়। কারণ গত লোকসভার ভোট প্রমাণ করেছে, সেগুলিতে এ বারের বিধানসভায় জেতার সম্ভাবনা রয়েছে তৃণমূলের। অন্য দিকে রাহুল গান্ধীও বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের মতামতের সঙ্গেই থাকতে চান। প্রদেশ নেতাদের সঙ্গে খড়্গের বৈঠকে তাঁর আলোচনায় ঠিক হয়েছে, কংগ্রেস বাংলায় ভোটের হার বাড়ানোর লক্ষ্য নেবে। পাঁচ থেকে সাতটি আসনে জেতারসুযোগ রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন