৫ সেকেন্ডের পরীক্ষাটি কী, এতে কী কী বোঝা যাবে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ঘুমের মধ্যে কি হার্ট অ্যাটাক হয়? অনেককেই বলতে শুনবেন, ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যু হয়েছে। বয়স্কদের বেশি হয়। তবে কমবয়সিরাও আজকাল বাদ যাচ্ছেন না। ঘুমোবার সময়ে হৃৎস্পন্দনের হার এমনিও কম থাকে, আচমকা যদি তা থেমে যায়, তখনই হার্ট অ্যাটাক হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’, যা নীরবে আসে ও তছনছ করে দিয়ে চলে যায়। তবে যতই নীরবে হার্টে ধাক্কা আসুক না কেন, তার কিছু লক্ষণ কিন্তু অনেক আগে থেকেই দেখা দিতে থাকে। জানলে অবাক হবেন, হার্টের অবস্থা বিগড়োচ্ছে কি না, তা জানা যেতে পারে পা দেখেই। ঘরে বসে ৫ সেকেন্ডের একটি পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে,হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না।
হার্টে ব্লকেজ হচ্ছে কি না, তা বাড়িতে বসেও বোঝা সম্ভব। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের গবেষণা বলছে, একজন শিশুর জন্মের সময় থেকেই তার হৃদ্যন্ত্রে কোলেস্টেরল জমা হতে শুরু করে, স্বাভাবিক নিয়মেই। এ বার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী সেই মাত্রা কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেটাই আসল। আর্টারির মুখ সরু হয়ে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই তার মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হবে। হার্টে ব্লকেজ অনেক রকমের হয়। বংশগত কারণে হলে তাকে বলা হবে, ‘কনজেনিটাল হার্ট ব্লক’। তা ছাড়া হার্টের ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত বা স্তব্ধ হয়ে গেলে তাকে ‘করোনারি থ্রম্বোসিস’ বলা হবে। যদি হার্টের স্পন্দনে গোলমাল হয়, তা হলে তাকে বলা হয় অ্যারিদ্মিয়া। সে ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দনের হার অনিয়মিত হয়ে যায়। সারা শরীরে ঠিক মতো রক্ত সঞ্চালন হয় না। ফলে শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে তরল জমা হতে শুরু করে। পায়েও ফ্লুইড জমতে থাকে, ফলে পা ফুলে যায়, গোড়ালি বা কাফ মাসলে যন্ত্রণা শুরু হয়। সাধারণ পায়ে এমন ব্যথা হলে বা পা ফুলে গেলে, তাকে গুরুত্ব দেন না অনেকেই। তবে যদি পায়ের একটি পরীক্ষা নিজেই করে নেওয়া যায়, তা হলে বোঝা যাবে এই ব্য়থার নেপথ্যে আসল কারণ কী।
পরীক্ষাটি কেমন?
গবেষকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘৫ মিনিট লেগ-টেস্ট’। আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন বা শুয়ে পড়ুন। এ বার একটি পা ৪৫ ডিগ্রি কোণে ৫ সেকেন্ডের জন্য উপরে তুলে রাখুন। যদি দেখেন পা উপরে তোলার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের পাতায় কাঁপুনি হচ্ছে, আঙুলের রং বদলে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে, তা হলে বুঝতে হবে পায়ে ঠিকমতো রক্ত চলাচল হচ্ছে না। এ বার পা নামিয়ে নিয়ে লক্ষ করুন। যদি দেখেন কিছু সময়ের মধ্যেই পা ফুলে গিয়েছে, গোড়ালি, পায়ের আঙুল ও কাফ মাসলে ব্যথা হচ্ছে, তা হলে বুঝতে হবে ধমনীতে ব্লকেজ রয়েছে।
গবেষণা বলছে, হার্টের ধমনীতে যদি ব্লকেজ থাকে এবং রক্তে অত্যধিক মাত্রায় কোলেস্টেরল জমা হতে থাকে, তা হলে এর প্রভাব পড়ে পায়েও। পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান ধরার মতো লক্ষণ বার বার দেখা দিতে থাকলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে শোয়ার পরে পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। পা অসাড়ও হয়ে যায় অনেকের। এই সবই পেরিফেরাল আর্টারি ডিজ়িজ়’ (পিএডি)-এর লক্ষণ হতে পারে। পায়ের রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে, ফলে পা ফুলে যেতে পারে, যন্ত্রণা হতে পারে। এটির কারণ হল, খারাপ কোলেস্টেরল জমে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না পায়ে। তখন ত্বকের রং বদলাতে থাকে, নীলচে-বেগনি শিরা ফুটে ওঠে। এমন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।