Monsoon Delayed

মুম্বই খানিক ভিজলেও মহারাষ্ট্র জুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি! উল্টো ছবি রাজস্থানের মরু অঞ্চলে, কেন এই খামখেয়ালিপনা প্রকৃতির?

মহারাষ্ট্রে এ বছর বৃষ্টির ঘাটতির নেপথ্যে অন্যতম কারণ মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানের পরিবর্তন। এই অক্ষরেখাই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৪:৩৫
Share:

রাজস্থানে গোটা জুন মাস ধরে চলছে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি। স্বাভাবিকের চেয়ে দেড়শো শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে সেই রাজ্যে। — ফাইল চিত্র।

দেশের মূল ভূখণ্ডে সময়মতোই প্রবেশ করেছে বর্ষা। কিন্তু তার পরে তার গতিপ্রকৃতিতে দেখা গিয়েছে খামখেয়ালিপনা। জুন মাসে মরুভূমির রাজ্য, তথা দেশের সবচেয়ে শুষ্ক রাজস্থানে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দেড়শো শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আর মহারাষ্ট্রে দেখা দিয়েছে ঘাটতি। মুম্বইয়ের জলাধারগুলির জলস্তর প্রশাসনের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। রবিবার মুম্বইয়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না আবহবিদেরা। বর্ষার এই খামখেয়ালিপনায় কিছুটা বিস্মিতই হয়েছেন তাঁরা। তবে তার নেপথ্যে রয়েছে কারণও।

Advertisement

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জুন মাসেই ভারতের পশ্চিম উপকূল ধরে এগিয়ে যায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আরব সাগর থেকে ছুটে আসা জলীয় বাষ্পের প্রভাবে কেরল, কর্নাটক, গোয়া, মহারাষ্ট্রে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। তার পরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের মধ্যভাগে প্রবেশ করে। রাজস্থানে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা প্রবেশ করে জুনের শেষে বা জুলাইয়ে। কিন্তু এ বছর বর্ষা তার ছন্দ হারিয়েছে। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, মধ্য ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত মহারাষ্ট্রে। সেখানে ৪ থেকে ১৮ জুন বৃষ্টির ঘাটতি পৌঁছেছে ৪১ শতাংশে। মুম্বইয়ের জলাধারগুলিতে ইতিমধ্যেই টান পড়তে শুরু করেছে। রবিবার মুম্বইয়ে কিছুটা বৃষ্টি হলেও রাজ্যে বর্ষা নামতে আগামী সপ্তাহ। অথচ ১ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে শুষ্ক রাজ্য রাজস্থানে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব রাজস্থানে ওই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু কেন এমন হল? আবহবিদদের একাংশ মনে করছে, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সক্রিয়তাই এর অন্যতম কারণ। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখার মধ্যে স্বাভাবিক সমন্বয় তৈরি হয়নি। তার প্রভাবে ওই মৌসুমি বায়ুর বিক্ষেপ ঘটছে। সুসংবদ্ধ ভাবে সে এগোতে পারছে না। সেই সুযোগে জুনের মাঝামাঝি সময়েও পশ্চিমা বায়ু ওই অঞ্চলে সক্রিয়।

Advertisement

এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝার উৎপত্তি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে। তার পরে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ভারতে আসে। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, উত্তর ভারতে শীতকালে বৃষ্টি, তুষারপাতের নেপথ্যে থাকে এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। এ বছর জুনের মাঝামাঝি সময়েও উত্তর-পশ্চিম ভারতের আবহাওয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা, যা সাধারণত ঘটে না। এ বার এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে বায়ুমণ্ডলের প্রবাহপথে পরিবর্তন ঘটায় মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। আবার তার প্রভাবেই রাজস্থান, পঞ্জাব, হরিয়ানা সংলগ্ন অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে।

এর ফলে রীতি মেনে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু যে পথে চলে, তা আর চলতে পারছে না। আরব সাগর থেকে যেটুকু জলীয় বাষ্প ছুটে আসছে, তা উত্তরে চলে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অনেকটাই নির্ভর করে আন্তঃনিরক্ষীয় বাতাসের উপরে। এই বাতাস দক্ষিণ ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্প আরব সাগরে নিয়ে যায়। তার পরে সেখান থেকে জলীয় বাষ্পকে ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে পৌঁছে দেয়। সোমালি জেট এই বাতাসকে আরও শক্তিশালী করে। এ বছর সেই সোমালি জেটও শক্তি সঞ্চয় করে নিজের রূপে ফিরতে পারেনি। পাশাপাশি, উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, জুন মাসে ভারতের পশ্চিম উপকূলে স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন মেঘের সঞ্চার হয়নি। ফলে মহারাষ্ট্রে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। বিক্ষিপ্ত ভাবে মেঘ দেখা গিয়েছে। বৃষ্টিও হয়েছে কিছু অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ভাবে।

মহারাষ্ট্রে এ বছর বৃষ্টির ঘাটতির নেপথ্যে অন্যতম কারণ মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানের পরিবর্তন। এই অক্ষরেখাই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। সাধারণ মধ্য ভারতের কাছাকাছি থাকে এই অক্ষরেখা, যার জেরে বৃষ্টি হয় মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ে। এ বার সেই অক্ষরেখা উত্তরে সরে গিয়েছে। সে কারণে বৃষ্টিও সে দিকেই সরে গিয়েছে। সঙ্গে সমস্যা বাড়িয়ে উষ্ণ বাতাস। দেশে কৃষির মানচিত্রে মহারাষ্ট্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আখ, সয়াবিন, তুলো, ডাল চাষ হয়, যা অনেকটাই নির্ভর করে বৃষ্টির উপর। এ বার বৃষ্টিতে এ ভাবে ঘাটতি হলে সেই চাষাবাদেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement