NET-UG Paper Leak

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসে রাজস্থানে আটক ১৫, জয়পুরে ধৃত ‘মূল অভিযুক্ত’! দুর্নীতির কেন্দ্রে সীকর, সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা

ঘটনাচক্রে, ২০২৪ সালেও ঠিক একই রকম ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই এ বার পরীক্ষার ন’দিনের মধ্যে তা বাতিল করে দিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১৪:৪৬
Share:

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসে জয়পুরে গ্রেফতার ‘মূল অভিযুক্ত’। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে গোটা দেশে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৩ মে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি ২০২৬) হয়। কিন্তু তার পরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ঘটনাচক্রে, ২০২৪ সালেও ঠিক একই রকম ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই এ বার পরীক্ষার ন’দিনের মধ্যে তা বাতিল করে দিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।

Advertisement

তদন্তকারী সূত্রে খবর, রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) ইতিমধ্যেই ১৫ জনকে আটক করেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুর্নীতির শিকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, পরীক্ষার আগে থেকেই বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়। সোমবার রাজ্যের সীকর জেলা থেকে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্য দিকে, জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মণীশ নামে এক ব্যক্তিকে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ‘মূলচক্রী’।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রশ্নপত্র রাজস্থানের সীকর জেলা থেকেই ফাঁস হয়েছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠতেই রাজ্য-রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। এই ঘটনায় দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। প্রসঙ্গত, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালেও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।

Advertisement

২০২৪ সালের ৫ মে-তেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় নিট-পিজির। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের ওয়েসিস স্কুল থেকে ওই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ঘটনাচক্রে, হাজারিবাগের নিট পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির মধ্যে এটি একটি স্কুল। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর থেকেই এই স্কুলের নাম উঠে এসেছিল। স্কুলে অধ্যক্ষ, সহ-অধ্যক্ষ এবং এক কর্মীকে গ্রেফতার করে সিবিআই। সিবিআই নিটের বেশ কিছু আধপোড়া প্রশ্নপত্র উদ্ধার করেছিল। সেই প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখার পর ঠিক কোন কেন্দ্র থেকে ফাঁস হয়েছিল, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। সিবিআই তখন দাবি করেছিল, পঙ্কজ কুমার ওরফে আদিত্য ওরফে সাহিল নামে এক যুবকের সঙ্গে মিলিত ভাবে ওয়েসিস স্কুলের অধ্যক্ষ, সহ-অধ্যক্ষ এবং এক কর্মী প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। যে বাক্সের মধ্যে নিটের প্রশ্নপত্র স্কুলে এসেছিল, সেটিকে কন্ট্রোল রুমে রাখা হয়েছিল। ধৃতদের জেরা করে সিবিআই জানতে পেরেছে যে, সেই বাক্স স্কুলে আসার পরই পঙ্কজ কুমারকে ওই কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করার অনুমতি দেন অধ্যক্ষ এবং সহ-অধ্যক্ষ।

সিবিআই সেই সময় জানায়, সেই বাক্স খোলার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিলেন অভিযুক্তেরা। সেই বাক্স থেকে কিছু প্রশ্নপত্র বার করে নেওয়া হয়েছিল। তার পর সেগুলি সমাধান করার জন্য হাজারিবাগের বেশ কিছু ডাক্তারি পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেই প্রশ্নপত্র তাঁদের দিয়ে সমাধান করানো হয়। তাঁদের বলা হয় ‘সলভার’। সেই উত্তরপত্র তার পর লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিট পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এই কাণ্ডে জড়িত সেই সব ‘সলভার’-এর বেশির ভাগকেই গ্রেফতার করে সিবিআই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement