রাবড়ি দেবী এবং লালুপ্রসাদ যাদবের ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তা সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। —ফাইল চিত্র।
লাঠি হাতে লালুপ্রসাদ যাদবের বাংলো পাহারা দিচ্ছেন আরজেডি কর্মীরা। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ এবং তাঁর স্ত্রী বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর শনিবার এই দৃশ্যই দেখা গেল পটনায়।
আরজেডি প্রধান এবং তাঁর স্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্প্রতি কাটছাঁট করা হয়েছে। বিহারের বসবাসকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের কার কতটা নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি পর্যালোচনা বৈঠক করে সে রাজ্যের সরকার। তার পরেই গত বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আরজেডি প্রধান এবং তাঁর স্ত্রীর ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বিহার স্পেশ্যাল আর্মড পুলিশ’ (বিএসএপি)-কে। প্রবীণ রাজনীতিক এবং তাঁর স্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য এ বার থেকে বিএসএপি-র দুই থেকে আট জন কর্মী, পটনা ডিস্ট্রিক্ট ফোর্সের দু’জন কর্মী থাকবেন, থাকবে একটি পাইলট কার এবং একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি।
তবে এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট লালুপ্রসাদের পরিবার। এ অবস্থায়, পটনার ১০ সার্কুলার রোডে রাবড়ি দেবীর বাংলোর সামনে দেখা গেল লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন আরজেডি কর্মীরা। গত দু’দশক ধরে এই বাংলোতেই থাকেন লালু এবং রাবড়ি। সংবাদসংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, বাংলোর সামনে থেকে সব নিরাপত্তাকর্মীদের ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রবীণ দম্পতি।
শনিবার সকালে লালুপ্রসাদের বাড়ির বাইরে ‘পাহারা’ দিতে দেখা যায় আরজেডি মুখপাত্র শক্তি যাদবকেও। তাঁর দাবি, সরকার ‘বার বার অপমান’ করায় ক্ষুব্ধ দলীয় প্রধানের পরিবার। তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছিল দলের শীর্ষনেতৃত্বের জন্য, তা নেতৃত্ব ‘ফিরিয়ে দিয়েছেন’। তাই এখন আরজেডি কর্মীরাই লালুপ্রসাদ এবং রাবড়ির নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন।
অন্য দিকে, আরজেডি শিবিরের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বিহারের শাসকজোট এনডিএ। তাদের দাবি, আরজেডির উচিত সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘সম্মান’ করা। বিহার বিজেপির সভাপতি সঞ্জয় সরাওগি বলেন, “রাজ্যে (সরকারের) একটি নিরাপত্তা কমিটি রয়েছে। তারাই এই সিদ্ধান্তগুলো নেয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাবড়ি দেবী এবং লালুজি— উভয়েই নিজেদের প্রাপ্য নিরাপত্তা পাচ্ছেন। এতে সমস্যা কোথায়?” জেডিইউ মুখপাত্র রাজীবরঞ্জন প্রসাদও বলেন, “কোনও রাজনীতিবিদের কতটা ঝুঁকি রয়েছে, তার উপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। রাবড়িজি-র ক্ষেত্রেও এর কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে তাঁর সম্মান জানানো উচিত।”