সুপ্রিম কোর্ট থেকে চিঠি প্রত্যাহার করে উপ-রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ পুলের স্ত্রী

নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো চিঠি এ দিন প্রত্যাহার করে নিলেন অরুণাচলপ্রদেশের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী কালিখো পুলের প্রথম স্ত্রী ডাংউইমসাই পুল। তাঁর আইনজীবি দুষ্মন্ত দাভে দাবি করেন, পুলের চিঠিতে খোদ প্রধান বিচারপতির ছেলে ও সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির নাম রয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

গুয়াহাটি শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০০:০০
Share:

নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো চিঠি এ দিন প্রত্যাহার করে নিলেন অরুণাচলপ্রদেশের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী কালিখো পুলের প্রথম স্ত্রী ডাংউইমসাই পুল। তাঁর আইনজীবি দুষ্মন্ত দাভে দাবি করেন, পুলের চিঠিতে খোদ প্রধান বিচারপতির ছেলে ও সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির নাম রয়েছে। তাই সেই চিঠি বা তার বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চালানো অর্থহীন। বিচারবিভাগীয় নয়, প্রশাসনিক পদক্ষেপ চান ডাংউইমসাই। তাই পুলের মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে এ বার উপ-রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হবেন ডাংউইমসাই। কারণ, খোদ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নামও যে স্বামীর ডায়রির পাতায় হাজির!

Advertisement

বেঁচে থাকতে বিস্তর রাজনৈতিক নাটক এবং নাটকীয় পট পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন কালিখো পুল। মৃত্যুর পরেও অরুণাচলপ্রদেশের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে নাটকীয়তার শেষ নেই। আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া পুলের ৬০ পাতার ডায়রি 'মেরে বিচার'-এ দিল্লি থেকে রাজ্যের কংগ্রেস-বিজেপির তাবড় নেতা-মন্ত্রীর দুর্নীতির কথা, ঘুষ চাওয়ার কথা, জোর দিতে টাকা আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। এমনকী তাঁর পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও মোটা টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন বলে সেখানে লেখা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইস্তেহার প্রকাশ শর্মিলার, গোপন ক্যামেরার ফাঁসে বিজেপি প্রার্থী

Advertisement

ডায়রির বক্তব্যকে পাত্তা না দিয়েই রাজ্য পুলিশ আত্মহত্যার তদন্ত শেষ করে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত ডাংউইমসাই পুল সুপ্রিম কোর্টে চিঠি পাঠিয়ে সিবিআই তদন্ত দাবি করেছিলেন। গত কাল তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে মামলা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি রায়ে খুশি। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বিচারপতি আদর্শকুমার গোয়েল ও উদয় উমেশ ললিতের এজলাসে বৃহস্পতিবার তাঁর চিঠি নিয়ে ওপেন কোর্ট হিয়ারিং হবে।

এ দিন ১৩ নম্বর এজলাসে তাঁর আইনজীবি দুষ্মন্ত দাভে তীব্র ভাষায় আদালতকেই আক্রমণ করেন। তাঁর প্রশ্ন, কোন যুক্তিতে ফৌজদারি রিট পিটিশনের অধীনে ডাংউইমসাইয়ের চিঠি ওপেন কোর্ট হিয়ারিংয়ের তালিকাভুক্ত করা হল? এই মামলায় খোদ প্রধান বিচারপতির ছেলে ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নাম জড়িত থাকায় ডাংউইমসাইয়ের চিঠি নিয়ে শুনানির অধিকার সুপ্রিম কোর্টের নেই। ডাংউইমসাই প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেছিলেন। চেয়েছিলেন সিবিআই তদন্ত। তা না করে চিঠি নিয়ে শুনানি অর্থহীন। তা ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট এ নিয়ে কোনও রায় দিলে ন্যায়বিচারের অন্য সব রাস্তাও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ডাংউইমসাইয়ের আবেদনপত্র সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করার আবেদন জানান দাভে। বিচারপতিরা তা মেনে নেন। ডাংউইমসাই জানিয়েছেন স্বামীর মৃত্যুর ন্যায়বিচার চেয়ে, স্বামীর লিখে যাওয়া ডায়রির তথ্যের তদন্ত চেয়ে তিনি উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির দ্বারস্থ হবেন। কারণ, স্বামীর ডায়রিতে রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গেও কিছু লেখা রয়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন