প্রতীকী ছবি।
এক মহিলাকে ধর্ষণ এবং ৫৮ মহিলার যৌন হেনস্থার অভিযোগে মহারাষ্ট্রের নাসিকে স্বঘোষিত ‘বাবা’কে গ্রেফতার করল পুলিশ। নিজেকে ক্যাপ্টেন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্চেন্ট নেভি অফিসার। পুলিশ সূত্রে খবর, ক্যাপ্টেন আবার এক প্রভাবশালী নিউমেরোলজিস্ট (সংখ্যা বিচারক)।
নির্যাতিতার অভিযোগ, সমস্যার সুরাহা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানা রকম তন্ত্রমন্ত্র করতেন ক্যাপ্টেন। মহিলাদের আস্থা অর্জন করতেন। তার পর মাদক মেশানো কিছু খাওয়াতেন। সম্মোহিত করতেন। ঘোরের মধ্যে চলে যেতেই সেই সব মহিলার যৌন হেনস্থা করতেন। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, এক জন মহিলা নন, ক্যাপ্টেনের লালসার শিকার হয়েছেন ৫৮ জন মহিলা।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন করতেন ক্যাপ্টেন। তারপর নিজের অফিসে মহিলাদের ডেকে নিয়ে আসতেন। অফিসে সেই মহিলা ঢুকতেই তাঁকে পানীয় প্রস্তাব করতেন। সেই পানীয় খাওয়ার পরই ঘোরের মধ্যে চলে যেতেন মহিলা। তারপর তাঁকে যৌন হেনস্থা করা হত। শুধু তা-ই নয়, গোপন ক্যামেরাও লাগানো থাকত সেই ঘরে। সেই ভিডিয়োয় ওই দৃশ্য বন্দি হত। ভিডিয়ো রেকর্ডের পাশাপাশি, মহিলাদের অশ্লীল ছবিও তুলে রাখতেন তিনি। অভিযোগ, কোনও মহিলা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তাঁকে ভয় দেখানো হত, ‘স্বামীর মৃত্যু হবে’। যাঁদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের সকলকেই ঠিক একই কায়দায় লালসার শিকার করেছিলেন ক্যাপ্টেন, এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫৮ মহিলার যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মহিলারা যাতে এ বিষয়ে মুখ না খোলেন, ভয় দেখানো হত। তাঁদের শাসানো হত, সংসার ছারখার করে দেব, স্বামীর ক্ষতি করে দেব। যে মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর অভিযোগ, গত বছর ধরে ক্যাপ্টেন তাঁকে হেনস্থা করেছেন। সংসার এবং স্বামীর নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ভয়ে চুপ করে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ক্যাপ্টেনের বাড়ি থেকে একটি পেন ড্রাইভ উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে ৫৮ জন মহিলার ভিডিয়ো রয়েছে। নাসিকে নিজের একটি অফিস বানিয়েছেন ক্যাপ্টেন। সেখানেই এই ধরনের কাজ করতেন তিনি। অভিযোগ, জমি-বাড়ির ব্যবসার একটি সংস্থা খুলে তার আড়ালে এই কাজ করতেন ক্যাপ্টেন। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, প্রভাবশালী রাজনীতিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে ক্যাপ্টেনের। ১৫ বছরে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়ে উঠেছেন তিনি। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে ক্যাপ্টেনের। পার্থডী, সিন্নর, মিরগাঁও এবং ওঝর এবং শিরডিতেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে তাঁর। নাসিকে ৩০ কোটি মূল্যের জমি রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি।